নোয়াখালীতে ছয় ঘণ্টা অবরুদ্ধ জনস্বাস্থ্য নির্বাহী প্রকৌশলী, কার্যালয় ঘেরাও

নোয়াখালীতে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীর কার্যালয় ঘেরাও করেন ঠিকাদারেরা। আজ বিকেলেছবি: প্রথম আলো

পানি সরবরাহ ও নলকূপ স্থাপনের কাজে ব্যবহৃত কয়েক কোটি টাকার মালামাল ‘গোপনে’ নামমাত্র মূল্যে নিলাম দেওয়ার অভিযোগ তুলে নোয়াখালী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয় ঘেরাও করেছেন একদল ঠিকাদার। এ সময় তাঁরা নির্বাহী প্রকৌশলীকে প্রায় ছয় ঘণ্টা নিজ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখেন।

আজ রোববার বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এ পরিস্থিতি তৈরি হয়। ঘেরাও চলাকালে ক্ষুব্ধ ঠিকাদারেরা নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে তাঁর অপসারণ ও শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরে নিলাম বাতিলের আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় এবং নির্বাহী প্রকৌশলী অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্তি পান।

বিকেল সাড়ে চারটার দিকে জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, অর্ধশতাধিক ঠিকাদার ও তাঁদের সহযোগীরা কার্যালয়ের সামনে অবস্থান করছেন। কার্যালয়ের ভেতরে নির্বাহী প্রকৌশলীর কক্ষেও কয়েকজন ঠিকাদার ছিলেন। সেখানে ঠিকাদারদের সঙ্গে নির্বাহী প্রকৌশলীর উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের ঘটনাও ঘটে।

জেলা বিএনপির সদস্য ও ঠিকাদার আবদুল মোতালেব ওরফে আপেল প্রথম আলোকে বলেন, ‘গত এক–দেড় মাস নির্বাচনী প্রচারণা ও রাজনৈতিক নানা কর্মসূচির কারণে ঠিকাদারেরা ব্যস্ত ছিলেন। এই সুযোগে গুদামে থাকা প্রায় সাত–আট কোটি টাকার মালামাল নামমাত্র মূল্যে নিজের পছন্দের ব্যক্তিদের কাছে নিলাম দেওয়া হয়। কয়েক দিন আগে বিষয়টি জানতে পেরে আজ আমরা কার্যালয়ে এসে প্রশ্ন তুলেছি। পরে নির্বাহী প্রকৌশলী নিলামের কার্যাদেশ বাতিল করতে সম্মত হন।’

আবদুল মোতালেব আরও অভিযোগ করেন, মালামাল নিলামের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ পাইয়ে দেওয়ার শর্তে গত কয়েক মাসে নির্বাহী প্রকৌশলী তাঁর কাছেসহ কয়েকজন ঠিকাদারের কাছ থেকে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা আদায় করেছেন। তাঁর দাবি, ‘ঘুষ দিতে গিয়ে ঠিকাদারেরা সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছেন। বাধ্য হয়েই আজ আমরা কার্যালয় ঘেরাও করেছি।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, গুদামের মালামাল তিনি নিলাম দেননি বলে দাবি করেন। তাঁর ভাষ্য, ‘নিলাম প্রক্রিয়াটি ঢাকা থেকে করা হয়েছে। ঠিকাদারেরা কার্যালয় ঘেরাও করে আমাকে অবরুদ্ধ করেন। পরে তাঁদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নিলামের কার্যাদেশ বাতিলের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।’

ঠিকাদারদের কাছ থেকে বিভিন্ন প্রকল্পে কয়েক কোটি টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, ‘যাঁরা কাজ পাননি, তাঁরাই এসব অভিযোগ তুলছেন।’