নাটোরে বটগাছের মগডালে উঠে যায় কিশোর, পরে যেভাবে নামানো হলো
নাটোরের নলডাঙ্গায় একটি মাদ্রাসার বটগাছের মগডালে উঠে পড়ে মো. আলহাজ্ব (১৩) নামের এক কিশোর। প্রায় তিন ঘণ্টা পর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা অভিযান চালিয়ে তাকে নিরাপদে নামিয়ে আনেন। পরে তাকে নানা-নানির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নলডাঙ্গা উপজেলার বাঁশিলা গ্রামের একটি মাদ্রাসা–সংলগ্ন বটগাছে এ ঘটনা ঘটে।
আলহাজ্ব নলডাঙ্গা পৌরসভার পশ্চিম সোনাপাতিল এলাকার বাসিন্দা মো. রাসেলের ছেলে। পরিবারের সদস্যরা জানান, আলহাজ্ব মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আলহাজ্ব তার নানা-নানির সঙ্গে থাকে। গতকাল সকাল সাতটার দিকে তাকে খুঁজে না পেয়ে নানা-নানি বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তাঁরা জানতে পারেন, বাঁশিলা এলাকার একটি মাদ্রাসার বটগাছের মাথায় উঠে বসে আছে আলহাজ্ব।
আমাদের দেখে ছেলেটি বটগাছের আরও উপরের ডালে উঠতে থাকে। আমরা তাকে কলা–বিস্কুট খাওয়ানোর কথা বলে নামানোর চেষ্টা করি। কিন্তু তাতে কাজ না হওয়ায় আমাদের একজন গাছে উঠে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে। নিরাপত্তার জন্য নিচে জাল ধরে রাখা ছিল। শেষ পর্যন্ত নিরাপদে তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।গোলাম মোস্তফা, নলডাঙ্গা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের স্টেশন কর্মকর্তা
স্থানীয় লোকজন অনেক চেষ্টা করেও তাকে গাছ থেকে নামাতে পারেননি। পরে নলডাঙ্গা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। এ সময় গাছের নিচে নেট বিছিয়ে এবং বিভিন্ন প্রলোভনে কিশোরটিকে নামানোর চেষ্টা করা হয়।
অভিযানটিতে নেতৃত্ব দেন নলডাঙ্গা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের স্টেশন কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা। তিনি আজ শনিবার দুপুরে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের দেখে ছেলেটি বটগাছের আরও উপরের ডালে উঠতে থাকে। আমরা তাকে কলা–বিস্কুট খাওয়ানোর কথা বলে নামানোর চেষ্টা করি। কিন্তু তাতে কাজ না হওয়ায় আমাদের একজন গাছে উঠে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে। নিরাপত্তার জন্য নিচে জাল ধরে রাখা ছিল। শেষ পর্যন্ত নিরাপদে তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।’