নেত্রকোনায় শিশু হত্যার দায়ে কিশোরীর ১০ বছরের আটকাদেশ
নেত্রকোনায় সালমান হক (৬) নামের এক শিশুকে হত্যার দায়ে এক কিশোরীকে ১০ বছরের আটকাদেশ দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে শিশু আদালতের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) এ কে এম এমদাদুল হক এ রায় ঘোষণা করেন।
নিহত শিশু সালমান হক কলমাকান্দা উপজেলার মো. আইনুল হকের ছেলে। সে একটি হাফিজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ছিল। আর ঘটনার সময় সাজা পাওয়া কিশোরীর বয়স ছিল ১৫ বছর। বর্তমানে তাঁর বয়স ২১ বছর। তাঁর বাড়িও একই এলাকায়। রায় ঘোষণার সময় অভিযুক্ত তরুণী আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন। বছরখানেক আগে তিনি জামিনে বের হয়ে তিনি পলাতক।
স্থানীয় বাসিন্দা ও শিশু আদালতসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ২৫ আগস্ট বিকেলে সালমান হককে বাড়ির পাশ থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে নিয়ে বিলের পানিতে ডুবিয়ে হত্যা করা হয়। পরের দিন পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
এ ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে ওই কিশোরীসহ তিনজনকে আসামি করে থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। পরে পুলিশ ওই কিশোরীকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠালে বিচারকের কাছে সে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। তদন্ত শেষে পুলিশ ২০২৩ সালের ২৮ জুলাই কিশোরীর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। মামলাটি শিশু আদালতে পাঠানো হয়।
সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে আজ বিচারক রায় ঘোষণা করেন। রায়ের বিষয়টি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন শিশু আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি নূরুল কবীর রুবেল। তিনি বলেন, শিশু আদালতে হত্যার সর্বোচ্চ শাস্তি ১০ বছরের কারাদণ্ড। আদালত কিশোরীকে ১০ বছরের আটকাদেশ ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করে রায় ঘোষণা করেন।