‘২-৩ ঘণ্টার টানা বৃষ্টি সব শেষ করে দিল, কীভাবে দেনা শোধ করব’

খেতে জমে থাকা বৃষ্টির পানি সেচে বের করে দিচ্ছেন এক কৃষক। আজ দুপুরে মিরসরাইয়ের মিঠানালা ইউনিয়নের পশ্চিমের চরেছবি: প্রথম আলো

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে টানা ভারী বৃষ্টিতে তরমুজখেতে পানি জমে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকেরা। গতকাল মঙ্গলবার বিকেল থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিতে নিচু এলাকার খেতগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আজ বুধবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উপজেলার ইছাখালী, মিঠানালা ও সাহেরখালী ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায়, অনেক তরমুজখেত পানিতে তলিয়ে আছে। পাকা, আধা পাকা ও কচি তরমুজের একটি অংশ পানির নিচে ডুবে গেছে। কৃষকেরা সেচ দিয়ে জমে থাকা পানি সরানোর চেষ্টা করছেন। কোথাও কোথাও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বিষণ্ন হয়ে খেতের পাশে বসে থাকতে দেখা গেছে।

মিরসরাই উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ বছর উপজেলার হিঙ্গলী, ওসমানপুর, ধুম, ইছাখালী, মিঠানালা ও সাহেরখালী—এই ছয়টি ইউনিয়নে প্রায় ৬ হাজার একর জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছে। জমি ইজারা নিয়ে নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার কৃষকেরা এখানে তরমুজ চাষ করেছেন। তাঁদের দেখাদেখি স্থানীয় কৃষকেরাও এ চাষে যুক্ত হন।

মিঠানালা ইউনিয়নের পশ্চিমের চরে ২৫ একর জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন সুবর্ণচরের কৃষক আবদুল হাই। প্রায় ৩০ লাখ টাকা ব্যয় করেছেন তিনি। আবদুল হাই বলেন, ‘বৈরী আবহাওয়ার কারণে এবার এমনিতেই ফলন ভালো হয়নি। এখন বৃষ্টিতে জমিতে পানি জমে যা হয়েছে, তাতে সব নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে। স্থানীয় মহাজন, এনজিও ও আড়তদারের কাছ থেকে আগাম টাকা নিয়ে চাষ করেছি। এখন পুঁজিই উঠে আসবে কি না, সেই দুশ্চিন্তায় আছি। সরকার সহযোগিতা করলে কিছুটা বাঁচতে পারতাম।’

আরেক কৃষক মো. আবদুল্লাহ বলেন, ‘এক–দুই দিনের মধ্যে প্রথম দফা ফল কাটার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম আমরা। ২-৩ ঘণ্টার টানা বৃষ্টি সব শেষ করে দিল। কীভাবে দেনা শোধ করব, সে চিন্তায় অস্থির লাগছে। খুব অসহায় লাগছে।’

এ বিষয়ে মিরসরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ চন্দ্র রায় বলেন, এবার মিরসরাইয়ের বেশ কিছু ইউনিয়নে ব্যাপকভাবে তরমুজের চাষ হয়েছে। বিশেষ করে সুবর্ণচরের কৃষকেরা ইজারা নিয়ে চাষ করেছেন। মঙ্গলবারের আকস্মিক ভারী বৃষ্টিতে অনেক খেতে পানি জমে ক্ষতি হয়েছে। যেসব খেতে তরমুজ পরিপক্ব হয়েছে, সেগুলো দ্রুত বিক্রির পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, যাতে ক্ষতি কিছুটা কমানো যায়।