রংপুরে মেডিকেলে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশু ভর্তি

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন হাম আক্রান্ত ৯ মাস বয়সী সায়েম। সোমবার দুপুরেছবি: প্রথম আলো

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (রমেক) হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুকে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল রোববার সন্ধ্যায় তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ নিয়ে রমেকে হামের উপসর্গ নিয়ে চার শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। তাদের আলাদা কক্ষে রেখে (আইসোলেসন) চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

রমেকের শিশু বিভাগের বিভাগীয় প্রধান আয়েশা সুলতানা প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসা শিশুদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শিশু বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২৩ মার্চ লালমনিরহাটের আমাতুল্লা জান্নাত (৮ মাস) ও ২৫ মার্চ দিনাজপুরের প্রজ্ঞা রায় (৭ মাস) ভর্তি হয়। গত কয়েক দিন তাঁরা শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন থাকলেও গতকাল থেকে তাদের আইসোলেশনে নেওয়া হয়। এদিন সন্ধ্যায় গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের আরাফাত (২ বছর) রংপুরের তাজহাটের সায়েম আহমেদ (৯ মাস) ভর্তি হয়। তাদেরও আইসোলেশনে রাখা হয়েছে।

আরাফাতের মা জয়নাফ আখতার প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঈদের দিন থেকে আরাফাতের গায়ে রেশ ওঠে। ঈদের পরদিন থাকি বেশি হইছিল রেশ। গলা ফুলে গেছিল। ডাক্তার বলছিল টনসিল। সিরাফ খাওয়ার পরও গাল ফুলে গেছে। তখন কাল হসপিটালে নিয়ে আসি। বাচ্চার জ্বর ছাড়তেছে, আবার আসতেছি। এখানকার ডাক্তার বলছে ভাইরাসের কথা।’

হামে আক্রান্ত আরেক শিশু সায়েম আহমেদের পরিবার রংপুরের সিটি করপোরেশনের স্থানীয় বাসিন্দা। সায়েম আহমেদের নানা আইয়ুব আলী বলেন, ‘দুই–তিন মাস আগে তার নাতির জ্বর হয়েছিল। তখন ঘাড়ের কাছে লাল লাল রেশ দেখা গিয়েছিল। আবার তিন দিন আগে আবার জ্বর আসছে, রেশ দেখা গেছে। একটি ক্লিনিকে ভর্তি করলে কাল ওখানকার ডাক্তার নাম কাটি দিছে। পরে আমি বাচ্চা নিয়া যায়া মেডিকেলে ভর্তি করাইছি।’

তবে রংপুর জেলায় হামের কোনো প্রাদুর্ভাব নেই বলে দাবি জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের। এই কার্যালয়ের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) জেলা সুপারিনটেনডেন্ট (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আবদুল মালেক প্রথম আলোকে বলেন, রংপুর জেলা গত জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত আট উপজেলায় ১২ জনকে সন্দেহভাজন হামে আক্রান্ত শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত চারজনের রিপোর্ট এসেছে, সেগুলো নেগেটিভ।

এদিকে বিভাগীয় পরিচালকের (স্বাস্থ্য) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত তিন মাসে রংপুর বিভাগের আট জেলায় হামে আক্রান্ত সন্দেহভাজন ১১৬ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে হামে আক্রান্ত পাওয়া গেছে ছয় শিশুর, রুবেলা ভাইরাসে আক্রান্ত পাওয়া গেছে চার শিশুর।

জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের ন্যাশনাল পোলিও-ইএস অ্যান্ড মিজেলস-রুবেলা ল্যাবরেটরি থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন রংপুর বিভাগীয় পরিচালকের (স্বাস্থ্য) পরিসংখ্যানবিদ আমিনুল ইসলাম।

রংপুর বিভাগে হামে আক্রান্তের মধ্যে দুই শিশু ঠাকুরগাঁওয়ের। এ ছাড়া একজন করে শিশু রয়েছে কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, দিনাজপুর ও রংপুরের। এ ছাড়া পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁওয়ের দুজন করে শিশু রুবেলা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে।

রংপুর বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) গাওসুল আজিম চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, হাম প্রতিরোধে সতর্কতা হিসেবে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১০ শয্যাবিশিষ্ট একটি হামের কর্নার করা হয়েছে। হামে আক্রান্ত শিশুদের সেখানে ভর্তি করা হচ্ছে। রংপুর জেলা হাসপাতাল ও উপজেলা কমপ্লেক্সগুলোতে হামের বিশেষ কর্নার করার জন্য বলা হয়েছে। রংপুর বিভাগে হাম ও রুবেলা রোগপ্রতিরোধে এমআর টিকার সংকট নেই বলেও জানান গাওসুল আজিম।