দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার দুর্লভপুর গ্রামের হানিফ মিয়ার ছেলে সাদ্দাম হোসেন ওরফে টাইগার সাদ্দাম (৩৪), সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার আদর্শগ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে মো. কাশেম আলী (৩৪), সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার আমতলী গ্রামের রাজন মিয়ার ছেলে সুমন (৩৪), নগরের আরামবাগ এলাকার সিরাজ মিয়ার ছেলে স্বপন মিয়া (৩৭), কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার নগুয়া গ্রামের আজিজুর রহমানের ছেলে মো. ফয়ছল আহমদ (৩৫) ও সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার ভাটিপাড়ার (গণকা) জাহান নুরের ছেলে শাহ আলম (৩৬)।

আদালত ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০১০ সালের ১৮ এপ্রিল রাতে ফতেহ্ ওসমানী তাঁর বন্ধু আবদুল মালেককে নিয়ে মোটরসাইকেলে বাসায় ফিরছিলেন। পথে নগরের শাহি ঈদগাহ এলাকায় ৮ থেকে ১০ জন ছিনতাইকারী তাঁদের পথ রোধ করেন। এ সময় ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে ফতেহ্ ওসমানী ও তাঁর বন্ধু আবদুল মালেক আহত হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একই বছরের ২৮ এপ্রিল ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ফতেহ্ ওসমানীর মৃত্যু হয়।

এর আগে ২১ এপ্রিল ফতেহ্ ওসমানীর ছোট ভাই আল-ফরহাদ মতিন বাদী হয়ে সাদ্দাম হোসেন ও কাশেমের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করে কোতয়ালি থানায় মামলা করেন। ফতেহ্ ওসমানীর মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে রেকর্ড হয়।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলাটি প্রথমে তদন্ত করেন সিলেট কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোজাহারুল ইসলাম। পরে মামলার তদন্তভার গ্রহণ করেন এসআই মো. আবদুর রহিম। ২০১১ সালের ১৯ জুলাই ছয়জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। মামলাটি কোতোয়ালি থানা থেকে বিমানবন্দর থানায় বদলি হলে মামলার বাদী আল ফরহাদ-মতিন অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে আদালতে নারাজি দেন। এরপর ২০১২ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি বিমানবন্দর থানার এসআই মো. আবদুল আলীম মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে আসামিদের ৩৯৬ ধারায় অভিযুক্ত করে ওই বছরের ১৯ জুলাই আদালতে সম্পূরক অভিযোগপত্র জমা দেন। পরে আসামিদের জবানবন্দি ও সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আজ আদালতে রায় ঘোষিত হলো।