তাদের অবহেলার কারণে ৬টি প্রাণ ঝরে গেছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। আজ বুধবার দুপুরেছবি: প্রথম আলো

রাজধানীর বেসরকারি আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তে দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেছেন, ‘তাদের (হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ) অবহেলার কারণে ছয়টি প্রাণ ঝরে গেছে। এসির সঙ্গে অক্সিজেন সাপোর্টের সংযোগ ছিল। কিন্তু তারা এসি চালু করেনি। ফলে অক্সিজেন সরবরাহে সমস্যা তৈরি হয় এবং ৬টি শিশু মারা যায়।’

বুধবার দুপুরে কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা বলেন।

উল্লেখ্য, বুধবার সকালে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়। এসির গ্যাসলাইনে লিকেজ বা অন্য কোনো যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ। রমনা থানার পুলিশ বলছে, তারা ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছে। এ ঘটনার পর পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) কক্ষটি থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছে।

এ বিষয়ে সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন সাংবাদিকদের আরও বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) ও অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এডিজি) সেখানে গেছেন। এরই মধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

হাম সংক্রমণ বৃদ্ধির জন্য বিগত সরকারের সমালোচনা করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ১৭ বছর ধরে স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দের টাকা লুটপাট করা হয়েছে। ইউনিসেফ, গ্যাভি ও এডিবির পক্ষ থেকে পাঁচবার অনুরোধ করার পরও আন্তর্জাতিক উৎস থেকে টিকা সংগ্রহ না করে বেসরকারিভাবে টিকা কেনা হয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হওয়ার জন্যই এমনটা করা হয়েছে।

মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর অবৈধ ও অনিয়মকারী ক্লিনিক-হাসপাতালের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হচ্ছে। যেসব প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স নেই, সেগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যেখানে ডাক্তার ছাড়া নার্স দিয়ে সিজারিয়ান অপারেশন করানো হয়, সেসব ক্লিনিকও বন্ধ করা হয়েছে।

এ ছাড়া স্বাস্থ্যমন্ত্রী পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও হোসেনপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন। হাসপাতাল পরিদর্শনকালে মন্ত্রী রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন এবং বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেলসহ স্বাস্থ্য খাতের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।