একসময়ের ভিপি হলফনামায় কেন ‘স্বশিক্ষিত’ লিখেছেন

শাহ মোহাম্মদ আবু জাফরছবি: সংগৃহীত

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-১ (বোয়ালমারী, আলফাডাঙ্গা ও মধুখালী) আসনে এবার জাতীয় পার্টির (জেপি) প্রার্থী হয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহ মোহাম্মদ আবু জাফর। সাতবার দল পরিবর্তন করে তিনি একাদশবারের মতো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। এর আগে তিনি চারবার সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হয়েছেন।

শাহ মোহাম্মদ আবু জাফর ফরিদপুর সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ ছাত্র সংসদের সহসভাপতি (ভিপি) ছিলেন। ১৯৭১ সালের উত্তাল সময়ে রাজেন্দ্র কলেজের ভিপি হিসেবে তিনি ফরিদপুরে ছাত্র আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন এবং পরবর্তী সময়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন।

তবে গত ডিসেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামায় শাহ জাফর নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা উল্লেখ করেছেন ‘স্বশিক্ষিত’ হিসেবে। অথচ রাজেন্দ্র কলেজের একজন ডাকসাইটে ভিপি কীভাবে ‘স্বশিক্ষিত’ হলেন—এ নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন।

শাহ জাফর প্রথমবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেন ১৯৭৯ সালে। এরপর ২০২৬ সাল পর্যন্ত ২০১৪ সাল বাদে সব জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হয়েছেন। ২০০৮ সাল থেকেই প্রার্থীদের হলফনামা দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়। এসব হলফনামা পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০০৮ ও ২০১৮ সালের হলফনামায় তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিল এইচএসসি, ২০২৪ সালের নির্বাচনে তা উল্লেখ করা হয় এসএসসি আর ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে দাখিল করা হলফনামায় লেখা হয় স্বশিক্ষিত।

বিভিন্ন সময়ে শিক্ষাগত যোগ্যতা ভিন্নভাবে উল্লেখ করার কারণ জানতে চাইলে শাহ মোহাম্মদ আবু জাফর প্রথম আলোকে বলেন, রাজধানীর কলাবাগানের বাসায় আগুন লাগার ঘটনায় তাঁর শিক্ষাসনদের কাগজপত্র পুড়ে যায়। নতুন করে সনদ সংগ্রহ করা জটিল হওয়ায় তিনি সর্বশেষ হলফনামায় ‘স্বশিক্ষিত’ লিখেছেন।

২০২৪ সালে এসএসসি লেখার বিষয়ে শাহ জাফর বলেন, ওই সময় তাড়াহুড়োর মধ্যে এসএসসি সনদটিই হাতের কাছে পাওয়া গিয়েছিল।

নিজের শিক্ষাজীবনের বর্ণনা দিতে গিয়ে শাহ জাফর বলেন, ১৯৬৮ সালে মাধ্যমিক পরীক্ষায় মানবিক বিভাগ থেকে দ্বিতীয় শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়ে তিনি ফরিদপুর সরকারি রাজেন্দ্র কলেজে ভর্তি হন। কলেজে অধ্যয়নকালে তিনি বৃহত্তর ফরিদপুর ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদক হন এবং উচ্চ মাধ্যমিক পাস করার পর ডিগ্রি প্রথম বর্ষে অধ্যয়নরত অবস্থায় রাজেন্দ্র কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি নির্বাচিত হন। তবে পরবর্তী সময়ে ডিগ্রি পরীক্ষা দেওয়া তাঁর পক্ষে আর সম্ভব হয়নি বলে জানান তিনি।