‘ভোটের সিল’সহ দোকানি গ্রেপ্তারের ঘটনায় বিএনপি-জামায়াতের পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন
লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনে ভোটে ব্যবহারের অবৈধ ছয়টি সিলসহ এক ব্যক্তি পুলিশের কাছে গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনায় পৃথকভাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থী। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির প্রার্থী দাবি করেছেন, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তি জামায়াতের কর্মী। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন জামায়াতের প্রার্থী। গতকাল মঙ্গলবার রাতে এই পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
এর আগে গতকাল বিকেলে লক্ষ্মীপুর শহরের পুরাতন আদালত রোডের মারইয়াম প্রেস থেকে ভোটে ব্যবহারের অবৈধ ছয়টি সিল, একটি কম্পিউটার, একটি মুঠোফোনসহ সোহেল রানা (৪০) নামের এক দোকানিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তার সোহেল সদর উপজেলার টুমচর ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং মারইয়াম প্রেসের স্বত্বাধিকারী।
এ ঘটনায় গতকাল রাত সাড়ে আটটার দিকে শহরের গোডাউন রোড এলাকায় লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের ধানের শীষের প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বিএনপি। সেখানে বিএনপি প্রার্থী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, ‘সিলসহ সোহেল রানা নামে যাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তিনি জামায়াতের কর্মী বলে জানতে পেরেছি। হয়তোবা তাঁর পদ–পদবিও রয়েছে। একটি কম্পিউটারসহ ছয়টা সিল জব্দ করা হয়েছে। সিলগুলো যিনি বা যাঁরা বানিয়েছেন, নিশ্চয়ই এর পেছনে অনেক কলকবজা রয়েছে এবং একটা ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের হিসাব–নিকাশ রয়েছে।’
এ্যানি বলেন, সিল বানানোর পেছনে কোনো প্রার্থীর বা কোনো রাজনৈতিক দলের নেতার ইন্ধন রয়েছে কি না, খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। প্রতিটি কেন্দ্রে জাল ভোট ও জালিয়াতি বন্ধের ব্যবস্থা নিতে হবে।
একইভাবে আরও অনেক সিল বানানো হয়েছে কি না, খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়ে শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি আরও বলেন, সিলের পাশাপাশি নিশ্চয়ই ব্যালট ছাপানোর ঘটনাও ঘটতে পারে। প্রশাসনকে অবশ্যই সতর্ক এবং সজাগ থেকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে।
এদিকে বিএনপির সংবাদ সম্মেলনের পর রাত ১০টার দিকে লক্ষ্মীপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে জামায়াতে ইসলামী। এতে লক্ষ্মীপুর-৩ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী রেজাউল করিম বলেন, ভোটের সিলসহ গ্রেপ্তার ব্যক্তির সঙ্গে জামায়াতকে জড়িয়ে বিএনপি মিথ্যাচার করছে।
রেজাউল করিম বলেন, ‘যেকোনো ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গেই জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ, অতীতের মতোই আরেকটি দলের মুদ্রাদোষে পরিণত হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া সোহেল জামায়াতের কেউ নন। এ ঘটনার সঙ্গে যে বা যারা জড়িত রয়েছে, প্রশাসন তদন্ত করে বের করবে। এ রকম একটি ঘৃণিত ঘটনার আমরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।’
লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওয়াহেদ পারভেজ বলেন, ‘ভোটের সিল তৈরি করার ঘটনায় সোহেল রানাকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সোহেল রানা পুলিশকে জানিয়েছেন, অর্ডার পেয়ে তিনি সিলগুলো তৈরি করছিলেন। তবে কে বা কারা অর্ডার দিয়েছেন, সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেননি। এ ঘটনার তদন্ত চলছে।’