বয়লারের টিউব ফেটে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ
দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলায় অবস্থিত বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদন যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। গতকাল রোববার বেলা সোয়া ১১টার দিকে বিদ্যুৎকেন্দ্রের একমাত্র সচল থাকা ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন প্রথম ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ৫২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতাসম্পন্ন কেন্দ্রটি পুরোপুরি উৎপাদনহীন হয়ে পড়েছে।
বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক প্রথম আলোকে বলেন, প্রথম ইউনিটের বয়লারের পুরো টিউব ফেটে যাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ আছে। প্রায় এক হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার বয়লারটি ঠান্ডা হলে এটির মেরামতকাজ শুরু হবে। তবে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি আবার কবে উৎপাদনে ফিরবে, তা এ মুহূর্তে সঠিকভাবে বলা যাচ্ছে না। এবার উৎপাদনে ফিরতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হবে। প্রথম ইউনিটটি অনেক পুরোনো, প্রতি পাঁচ বছর পরপর মেরামত করতে হয়। ইতিমধ্যে ২০ বছর হয়ে গেছে।
বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র ৫২৫ মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষমতাসম্পন্ন। বিদ্যুৎকেন্দ্রের ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তৃতীয় ইউনিট যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে গত বছরের ১ নভেম্বর থেকে বন্ধ আছে। ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দ্বিতীয় ইউনিটি ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে বন্ধ আছে। গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর প্রথম ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। পরে ১৫ দিন পর ১৪ জানুয়ারি উৎপাদন শুরু হয়। ৪ দিন বিদ্যুৎ উৎপাদনের পর গতকাল রোববার বেলা ১১টা ১৫ মিনিটে ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন প্রথম ইউনিটেও বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। ফলে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেল বিদ্যুৎকেন্দ্রের তিনটি ইউনিটের উৎপাদন কার্যক্রম।
বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী মো. আবু বক্কর সিদ্দিক আরও বলেন, ‘চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হারবিন ইন্টারন্যাশনাল পরিচালিত ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তৃতীয় ইউনিটের যান্ত্রিক ত্রুটি মেরামতে কাজ চলছে। চীন থেকে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ পৌঁছালে আবার তৃতীয় ইউনিটে উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হবে। তারপরও আশা করছি, আগামী মার্চে উৎপাদনে ফিরতে পারব। আর দ্বিতীয় ইউনিটির যন্ত্রাংশ দাম বাড়ার অজুহাতে চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গড়িমসি করছে।’