চলতি বছরের ২৪ জুলাই নবগঠিত এই উপজেলায় প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হয়। এই উপজেলার আয়তন ২২১ বর্গকিলোমিটার। ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী জনসংখ্যা রয়েছে ৯২ হাজার ৭৪৫ জন। এখানে ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয় ১টি, ২০ একরের ঊর্ধ্বে জলমহাল ৩২টি, ২০ একরের নিচে জলমহালের সংখ্যা ১২টি, হাটবাজারের সংখ্যা ৪টি, শিক্ষার হার ২৯ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৮৪টি। মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ১০টি ও ১টি কলেজ রয়েছে। এ ছাড়া মোট কৃষিজমির পরিমাণ ১৫ হাজার ৬০০ হেক্টর। 

 উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়সহ ২৩টি দপ্তরে ২১২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রয়োজনীয়তা থাকলেও  ইউএনওসহ আছেন মাত্র ৯ জন কর্মকর্তা–কর্মচারী। তাঁদের মধ্যে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা, এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা অন্য উপজেলা থেকে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন।

এখানে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি), উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে এখনো কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। 

মধ্যনগর উপজেলার ১০ শয্যাবিশিষ্ট মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রের একটি কক্ষকে ইউএনওর অস্থায়ী কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। অতিরিক্ত পদে দায়িত্বরত কর্মকর্তারা উপজেলার মধ্যনগর বিশ্বেশ্বরী পাবলিক উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজের দুটি কক্ষকে কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করে আসছেন। এ অবস্থায় নবগঠিত এই উপজেলার মানুষকে বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজে ধর্মপাশা উপজেলা সদরে আসা–যাওয়া করতে গিয়ে ভোড়ান্তি পোহাতে হচ্ছে। 

মধ্যনগর বাজারের বাসিন্দা সংস্কৃতিকর্মী আলা উদ্দিন বলেন, উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো শূন্য থাকায় মানুষকে বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজে ধর্মপাশা উপজেলায় যেতে হচ্ছে। এতে নতুন উপজেলা হলেও কর্মকর্তা–কর্মচারী ও ভবনজনিত সমস্যায় মানুষ আশানুরূপ সেবা পাচ্ছেন না। দ্রুত এসব সমস্যা সমাধানের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি। 

 মধ্যনগরের ইউএনও নাহিদ হাসান খান বলেন, এ উপজেলায় প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে লোকবল নেই, নেই প্রয়োজনীয় ভবন। ফলে প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।