রাজবাড়ীতে নিখোঁজের তিন দিন পর কলেজছাত্রের বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার
রাজবাড়ীতে নিখোঁজের তিন দিন পর চৌধুরী ফুয়াদ হাসান ওরফে রোহান (১৯) নামের এক কলেজছাত্রের বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজবাড়ী সদর উপজেলার দাদসী ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামের বাড়ির কাছের একটি ডোবা থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়।
ফুয়াদ হাসান উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের ফরহাদ চৌধুরীর ছেলে। তিনি রাজবাড়ী শহরের একটি বেসরকারি টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
ফুয়াদের দাদা মরহুম রোকন উদ্দিন চৌধুরী রাজবাড়ী জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তাঁর ফুফাতো ভাই আরিফুল ইসলাম বর্তমানে রাজবাড়ী জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ফুয়াদ হাসানের পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার দুপুরে খাওয়ার সময় ফুয়াদের মুঠোফোনে একটি কল আসে। খাবার খেয়ে তিনি দ্রুত বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। বিকেল চারটা পর্যন্ত বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা তাঁর মুঠোফোনে কল করেন। তবে তাঁর দুটি ফোনই বন্ধ পাওয়া যায়। তিনি একটি অ্যানড্রয়েড ও একটি বাটন ফোন ব্যবহার করতেন।
আত্মীয়স্বজন, বন্ধু ও পরিচিতদের কাছে খোঁজ করেও সন্ধান না পাওয়ায় পরদিন মঙ্গলবার পরিবারের পক্ষ থেকে সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে বাড়ি থেকে প্রায় ৫০০ গজ দূরের একটি ডোবায় স্থানীয় লোকজন একটি বস্তা ভাসতে দেখেন। বস্তা থেকে দুর্গন্ধ বের হওয়ায় সন্দেহ হলে তাঁরা লাঠি দিয়ে বস্তাটিতে ধাক্কা দেন। এ সময় বস্তার ভেতর থেকে মানুষের একটি পা বেরিয়ে আসে। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। সন্ধ্যা ছয়টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বস্তাবন্দী লাশটি উদ্ধার করে। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি ফুয়াদের বলে শনাক্ত করেন। রাত আটটার দিকে পুলিশ ফুয়াদের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার মীর মুনির হোসেন বলেন, ফুয়াদের লাশটি একটি বস্তার ভেতরে রাখা হয়েছিল। আরেকটি বস্তায় মাটি ভরে লাশের বস্তার সঙ্গে বেঁধে সেটি ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়। লাশটি ফুলে ওঠার পর বস্তাটি পানিতে ভেসে উঠলে স্থানীয় লোকজন সেটি দেখতে পান।
পুলিশ সুপার বলেন, ৫ অক্টোবর থেকে কলেজছাত্র ফুয়াদ নিখোঁজ ছিলেন। নিখোঁজের পর থেকেই পুলিশ বিভিন্ন বিষয় সামনে রেখে তদন্ত করছে। তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোনের তথ্য, পারিবারিক বিরোধ, প্রেমঘটিত কোনো বিষয় ছিল কি না এবং বন্ধুদের মধ্যে কোনো বিরোধ ছিল কি না—এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মীর মুনির হোসেন বলেন, ‘এখনো হত্যার কারণ নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। তবে বিষয়টি নিয়ে পুলিশের একাধিক দল মাঠে কাজ করছে।’