সিলেট-৬ আসন: কালোটাকা ছড়ানোর অভিযোগ বিএনপি প্রার্থীর

সিলেট-৬ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর বিরুদ্ধে কালোটাকা ছড়ানোসহ নানা অভিযোগে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বিএনপির প্রার্থী এমরান আহমদ চৌধুরী। মঙ্গলবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়েছবি: প্রথম আলো

নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করতে কালোটাকা ছড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সিলেট-৬ (বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জ) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এমরান আহমদ চৌধুরী। আজ মঙ্গলবার দুপুরে সিলেটের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমের কাছে লিখিতভাবে তিনি এ বিষয়ে অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর পক্ষ থেকে কালোটাকার ছড়াছড়ি, সংখ্যালঘু বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও বহিরাগতদের দিয়ে মহড়া দেওয়া হচ্ছে।

লিখিত অভিযোগে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরী বলেন, ‘সিলেট-৬ সংসদীয় আসনে বিয়ানীবাজার উপজেলা একটি প্রবাসী–অধ্যুষিত জনবহুল এলাকা। এতে পৌরসভা, উপজেলা ও ইউনিয়ন আছে। কিন্তু ইতিমধ্যে আমরা দেখতে পাচ্ছি, বহিরাগত ক্যাডার ও সন্ত্রাসী প্রকৃতির অনেক লোক বিয়ানীবাজারের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান নিয়ে নির্বাচনের প্রচারণার বাহানায় সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ভয়ভীতি সৃষ্টি করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।’

প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর কর্মী, সমর্থক ও বহিরাগত সন্ত্রাসীরা বিয়ানীবাজারের বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র দখল এবং জাল ভোট প্রদানসহ ব্যালট বাক্স ছিনতাই করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে বলে বিএনপির প্রার্থী লিখিত অভিযোগে জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, ‘বহিরাগতরা সাধারণ ভোটারদের বাসাবাড়িতে গিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংগ্রহ করে নগদ টাকা প্রদানের মাধ্যমে ভোট কেনাবেচাসহ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোটারদের বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিচ্ছে।’

লিখিত অভিযোগে এমরান আহমদ বলেন, ‘এসব আশঙ্কা ও অভিযোগ আমরা ৪ ও ৫ ফেব্রুয়ারি প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে দাখিল করি। সর্বশেষ ৮ ফেব্রুয়ারি জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা বরাবরে আরেকটি অভিযোগ দায়ের করি। কিন্তু দুঃখের বিষয়, এসব বিষয়ে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে বিয়ানীবাজার উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে সেনাবাহিনীর মোতায়েন না করায় উদ্বেগ প্রকাশ করছি।’

তবে কোন প্রার্থী কালোটাকা ছড়াচ্ছেন কিংবা কোন প্রার্থীর কর্মী, সমর্থক ও বহিরাগতরা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে হুমকি দিচ্ছেন, এটা লিখিত আবেদনে বিএনপির প্রার্থী উল্লেখ করেননি। তিনি আবেদনের অনুলিপি সিলেটের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা এবং গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজারের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা বরাবরেও দাখিল করেন।

যোগাযোগ করা হলে সিলেটের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম প্রথম আলোকে বলেন, ‘সিলেট-৬ আসনের বিএনপি প্রার্থীর লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সত্যতা পেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’