কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জিএমপির চতুর্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। জিএমপি কমিশনার মোল্যা নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান বক্তা ছিলেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ। প্রধান অতিথি পৌঁছানোর পর তাঁকে উদ্বোধনী মঞ্চে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁর হাতে ওড়ানোর জন্য কয়েকটি গ্যাস বেলুন দেওয়া হয়। কিন্তু বারবার চেষ্টা করেও বেলুনগুলো উড়ছিল না। পরে কয়েকজন পুলিশ সদস্য বেলুনগুলো নিয়ে মঞ্চের পাশে চলে যান। আর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চলে যান মূল মঞ্চে।

প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন জানান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চলে যাওয়ার পরে কয়েকজন পুলিশ সদস্য বেলুন বিক্রেতাকে ডেকে বকাঝকা করলে বিক্রেতা নিজেই বেলুনগুলো ওড়ানোর চেষ্টা করেন। তিনি বেলুনে আগুন দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিস্ফোরণ ঘটে। এ সময় পাশে বসে থাকা মীরাক্কেলখ্যাত কৌতুক অভিনেতা আবু হেনা রনিসহ পাঁচজন দগ্ধ হন। পুলিশ সদস্যরা তাঁদের গায়ে পানি ঢেলে আগুন নেভান এবং দ্রুত তাঁদের গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে আবু হেনা রনি, মোশাররফ হোসেন ও জিল্লুর রহমানকে ঢাকায় পাঠানো হয়।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মনিরা আক্তার জানান, অভিনেতা আবু হেনা রনির শরীরের ৪০ ভাগ, মোশাররফ হোসেনের ৩০ ভাগ ও অন্য ব্যক্তিরা ২০ ভাগ দগ্ধ হয়েছেন। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তিনজনকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক পুলিশ সদস্য জানান, মঞ্চে যখন বেলুনগুলো ওড়েনি, তখন কয়েকজন পুলিশ সদস্য বেলুনগুলো নিয়ে মঞ্চের পাশে যান এবং বেলুন বিক্রেতাকে ডেকে বলেন, বেলুন ওড়েনি, টাকা দেওয়া হবে না। তখন বেলুন বিক্রেতা সবাইকে দেখানোর জন্য বেলুনে আগুন ধরিয়ে দেন। এতে বিস্ফোরণ হলে পাশে থাকা পাঁচজন দগ্ধ হন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গাজীপুর মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার আবু সায়েম নয়ন প্রথম আলোকে বলেন, দগ্ধ ব্যক্তিদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাঁরা বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত আছেন বলে চিকিৎসক জানিয়েছেন।