সাভারে দুই পোড়া মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় একজন গ্রেপ্তার

সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টার থেকে আগুনে পোড়া দুটি মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার মশিউর রহমান খান সম্রাটছবি: প্রথম আলো

ঢাকার সাভারে পরিত্যক্ত পৌর কমিউনিটি সেন্টার থেকে আগুনে পোড়া দুটি মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল রোববার মশিউর রহমান খান সম্রাট ওরফে সাইকো সম্রাট (৪০) নামে ওই ব্যক্তিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। সম্রাট সাভারের ব্যাংক কলোনি এলাকার মৃত সালামের ছেলে বলে তিনি পুলিশকে জানিয়েছেন।

গত ছয় মাসে ওই ভবন ও আশপাশের এলাকা থেকে ছয়টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ঢাকা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরাফাতুল ইসলাম (ক্রাইম, অপস ও ট্রাফিক উত্তর) প্রথম আলোকে বলেন, প্রতিটি হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। গতকালের হত্যার ঘটনায় সম্রাটকে আটকের পর দায়ের হওয়া মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। হত্যার কারণ হিসেবে তাঁর দেওয়া তথ্যগুলো যাচাই করে দেখা হচ্ছে। এ ছাড়া ময়নাতদন্তের পর বিষয়টি পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যাবে।

সাভার মডেল থানা–পুলিশ জানায়, গতকাল বেলা দেড়টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯–এর মাধ্যমে সাভার মডেল থানার অদূরে পরিত্যক্ত সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারে দুটি মরদেহ পড়ে আছে বলে জানতে পারে পুলিশ। পরে পুলিশের একটি দল ওই ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষে আগুনে পোড়া দুটি মরদেহ দেখতে পান।

আরও পড়ুন

পুলিশ জানায়, গতকাল মরদেহ উদ্ধারের পর সম্প্রতি ওই ভবনের চারপাশে লাগানো সিসিটিভি ফুটেজ দেখে মশিউর ওরফে সম্রাটকে শনাক্ত করে আটক করা হয়। পরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে ছয়টি হত্যাকাণ্ড তিনি ঘটিয়েছেন বলে স্বীকার করেন।

সাভার মডেল থানা–পুলিশ জানায়, গত বছরের ৪ জুলাই সাভার মডেল মসজিদের পাশের একটি চায়ের দোকানের পেছন থেকে দুপুরে আসমা বেগমের (৭৫) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। একই বছরের ২৯ আগস্ট বিকেলে সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে গলায় ওড়না প্যাঁচানো এবং দুই হাত গামছা দিয়ে বাঁধা অবস্থায় অজ্ঞাতনামা পুরুষের (৩০) অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। একই বছরের ১১ অক্টোবর বিকেলে ওই ভবনের একই তলা থেকে অজ্ঞাতনামা নারীর (৩০) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ১৯ ডিসেম্বর একই তলা থেকে আগুনে পোড়া অর্ধগলিত অজ্ঞাতনামা পুরুষের (৩৫) এবং গতকাল রোববার একই তলা থেকে অজ্ঞাতনামা পুরুষ (২৫) এবং অজ্ঞাতনামা এক মেয়ে শিশুর (১৩) আগুনে পোড়া লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।