মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৬, ছেলেদের ১৮ করার দাবি পঞ্চগড়ের নিকাহ রেজিস্ট্রারদের

ছেলে–মেয়েদের বিয়ের বয়স কমানোসহ আটদফা দাবিতে পঞ্চগড় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে স্মারকলিপি দেন জেলা মুসলিম নিকাহ ও তালাক রেজিস্ট্রার সমিতির সদস্যরা। স্মারকলিপি প্রদানের আগে তাঁরা কার্যালয়ের নিচে দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটায়ছবি : সংগৃহীত

মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৬ বছর এবং ছেলেদের ১৮ বছর করাসহ আট দফা দাবি জানিয়েছেন পঞ্চগড় জেলা মুসলিম নিকাহ ও তালাক রেজিস্ট্রার সমিতির সদস্যরা। এ বিষয়ে আজ মঙ্গলবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে তাঁরা প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা দাবির মধ্যে আছে, সর্বশেষ মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) বিধিমালা ২০০৯–এর বিধি ১৩ ধারা মোতাবেক যেসব নিকাহ রেজিস্ট্রার বতর্মানে কর্মরত, তাঁদের বহাল রাখা; নিকাহ রেজিস্ট্রারদের অবসরভাতা না থাকায় বর্তমান বয়স ৬৭ বছরের পরিবর্তে ৭৫ বছর করা; বাবার অবসরের পর পুত্রকে যোগ্যতার ভিত্তিতে বিধি মোতাবেক সরাসরি নিকাহ রেজিস্ট্রার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া; মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৬ বছর এবং ছেলেদের ১৮ বছর করা।

আমরা যে বয়সের কথা বলেছি, মেয়েদের বয়স ১৬ আর ছেলেদের ১৮, এটা যেন বাস্তবায়ন করা হয়। এটা বাস্তবায়ন করার জন্য আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি। বিয়ের বয়স ১৬ ও ১৮ হলে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ হবে। অনৈতিক কাজ হবে না, সমাজে বিশৃঙ্খলা হবে না।
আরাফাত ইদ্রিস, সভাপতি, নিকাহ ও তালাক রেজিস্ট্রার সমিতির পঞ্চগড় সদর

অন্য দাবিগুলো হলো নিকাহ রেজিস্ট্রার নিয়োগের ক্ষেত্রে স্থানীয় সংসদ সদস্যের ডিও লেটার (আধা সরকারি পত্র) প্রথা বন্ধ করা; নিকাহ রেজিস্ট্রারদের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অহেতুক হয়রানি কার্যক্রম বন্ধ করা; বিয়ের রেজিস্ট্রেশন ফি বৃদ্ধি করা এবং বিয়ে ও তালাকের ব্যাপারে নোটারি পাবলিকের হলফনামা বন্ধ করা।

২০১৭ সালের বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন অনুযায়ী দেশে ছেলেদের বিয়ের বয়স ২১ এবং মেয়েদের বয়স ১৮। তবে এই আইনের বিশেষ বিধানে (১৯ ধারায়) বলা আছে, ‘নির্ধারিত কোনো বিশেষ প্রেক্ষাপটে অপ্রাপ্তবয়স্কের সর্বোত্তম স্বার্থে, আদালতের নির্দেশ এবং মা–বাবা অথবা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অভিভাবকের সম্মতিতে বিয়ে অনুষ্ঠিত হলে তা অপরাধ বলে গণ্য হবে না।’

ছেলে–মেয়েদের বিয়ের বয়স কমানোর দাবির বিষয়ে জানতে চাওয়া হয় পঞ্চগড় জেলা মুসলিম নিকাহ ও তালাক রেজিস্ট্রার সমিতির সভাপতি এ আর এম শহীদুল ইসলামের কাছে। মুঠোফোনে প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের আবহাওয়ার কারণে এবং মোবাইল-ইন্টারনেট ব্যবহার সহজলভ্য হওয়ায় ছেলেমেয়েরা ১২ বছরের মধ্যে শারীরিক পরিপূর্ণতা পাচ্ছে। এতে অনেকেই অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়ছে। এসব ঘটনায় নির্ধারিত বয়সের আগেই স্থানীয়ভাবে তাদের অ্যাফিডেভিটের (হলফনামা) মাধ্যমে বিয়েও হচ্ছে; কিন্তু নিকাহ রেজিস্ট্রি হচ্ছে না। এতে পরবর্তী সময়ে পারিবারিক কোনো কলহ বা নির্যাতনের শিকার হলে ভুক্তভোগীরা ঠিকমতো আইনের আশ্রয়ও নিতে পারে না।’

শহীদুল ইসলাম জানান, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭ ও বিধিমালা ২০১৮ সংশোধন করে বৈবাহিক অপরাধ নিরোধে ছেলের বয়স ১৮ ও মেয়ের বয়স ১৬ নির্ধারণ করার দাবি জানানো হয়েছে।

নিকাহ রেজিস্ট্রাররা স্মারকলিপি নিয়ে এসেছিলেন। আমি সেটি রিসিভ করেছি, তবে এখনো পুরোটা পড়া হয়নি। স্মারকলিপিটি পড়ার পরে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে। স্মারকলিপি দেওয়া বা নেওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের কোনো মতামত থাকে না। যে কর্তৃপক্ষের বরাবর দেওয়া হয়, আমরা মূলত সেখানে পাঠানোর ব্যবস্থা করি।
শুকরিয়া পারভীন, জেলা প্রশাসক, পঞ্চগড়

স্মারকলিপি দেওয়ার আগে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন নিকাহ রেজিস্ট্রাররা। এ সময় নিকাহ ও তালাক রেজিস্ট্রার সমিতির পঞ্চগড় সদর উপজেলা কমিটির সভাপতি আরাফাত ইদ্রিস সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা যে বয়সের কথা বলেছি, মেয়েদের বয়স ১৬ আর ছেলেদের ১৮, এটা যেন বাস্তবায়ন করা হয়। এটা বাস্তবায়ন করার জন্য আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি। বিয়ের বয়স ১৬ ও ১৮ হলে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ হবে। অনৈতিক কাজ হবে না, সমাজে বিশৃঙ্খলা হবে না।’

এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শেখ মো. হাবিবুর রহমান, সদর উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম, বোদা উপজেলা শাখার সভাপতি মাশরুল আলম, আটোয়ারী উপজেলা শাখার সভাপতি আবদুল মোতালেব, দেবীগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি শামসুল আলম এবং তেঁতুলিয়া উপজেলা শাখার সভাপতি আজমত আলীসহ বিভিন্ন উপজেলার নিকাহ রেজিস্ট্রার।

স্মারকলিপিটি গ্রহণ করেছেন জেলা প্রশাসক শুকরিয়া পারভীন। এ বিষয়ে মুঠোফোনে প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘নিকাহ রেজিস্ট্রাররা স্মারকলিপি নিয়ে এসেছিলেন। আমি সেটি রিসিভ করেছি, তবে এখনো পুরোটা পড়া হয়নি। স্মারকলিপিটি পড়ার পরে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে। স্মারকলিপি দেওয়া বা নেওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের কোনো মতামত থাকে না। যে কর্তৃপক্ষের বরাবর দেওয়া হয়, আমরা মূলত সেখানে পাঠানোর ব্যবস্থা করি।’