পুলিশ সুপার প্রবীর কুমার রায় প্রথম আলোকে বলেন, আকাশকে গ্রেপ্তার করার পরদিন ১৭ জুলাই তাঁর তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। রিমান্ড শেষে ২০ জুলাই বিকেলে নড়াইলের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোরশেদুল আলমের আদালতে হাজির করা হলে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন আকাশ। সেখানে নিজের আইডি থেকে ওই পোস্ট দেওয়ার কথা স্বীকার করেন তিনি। তিনি আদালতে জানান, স্বেচ্ছায় তিনি ওই পোস্ট দিয়েছিলেন।

গতকাল মঙ্গলবার ফেসবুকে গুজব ছড়িয়ে পড়ে, ‘আকাশ সাহা’ নামে আইডি খুলে জাহাঙ্গীর ইসলাম নামের এক ব্যক্তি ওই পোস্ট দিয়েছিলেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে। এরপর যোগাযোগ করা হলে আকাশ সাহার জবানবন্দির তথ্য নিশ্চিত করেন পুলিশ সুপার প্রবীর কুমার রায়।

আদালতে স্বীকারোক্তি দেওয়ার পর সাত দিনেও তথ্যটি প্রকাশ্যে না আসার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে পুলিশ সুপার প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সবাই জানেন। ওই সময়ে এলাকার পরিবেশ উত্তপ্ত ছিল, তাই আমরা সাংবাদিকদের জানাইনি।’

পুলিশ সুপার বলেন, জাহাঙ্গীর ইসলাম নামের কেউ এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার হয়নি। আবার পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার জন্য যাঁরা ফেসবুকে এগুলো ছড়াচ্ছে, বাড়াবাড়ি করলে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

লোহাগড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হারান চন্দ্র পাল জানান, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে কটূক্তি করে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে ১৬ জুলাই রাতে আকাশ সাহাকে খুলনা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ওই রাতেই ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে লোহাগড়া থানায় মামলা করেন দিঘলিয়া এলাকার বাসিন্দা সালাউদ্দিন কচি। আকাশ দিঘলিয়া গ্রামের সাহাপাড়ার ব্যবসায়ী আশোক সাহার ছেলে। তিনি স্থানীয় নবগঙ্গা ডিগ্রি কলেজে স্নাতকের ছাত্র। আকাশ বর্তমানে কারাগারে আছেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন