পাঞ্জাবির বোতাম খুলে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট দেখালেন বিএনপির প্রার্থী

পাঞ্জাবির বোতাম খুলে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট দেখাচ্ছেন গোপালগঞ্জ-৩ (কোটালীপাড়া-টুঙ্গিপাড়া) আসনে বিএনপির প্রার্থী ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি এস এম জিলানীছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোপালগঞ্জ-৩ (কোটালীপাড়া–টুঙ্গিপাড়া) আসনের বিএনপির প্রার্থী ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি এস এম জিলানীর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ওই ভিডিওতে তাঁকে নেতা–কর্মীদের সামনে নিজের গায়ে পরা বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট প্রদর্শন করতে দেখা যায়।

গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় কোটালীপাড়া উপজেলার কাজী ফিলিং স্টেশনের পাশে নির্মিত অস্থায়ী ক্যাম্পে সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের ৬ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট দেখান।

ভিডিওতে দেখা যায়, উপস্থিত নেতা–কর্মীদের উদ্দেশে এস এম জিলানী বলেন, ‘সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকলে কোনো ষড়যন্ত্রই কাজে আসবে না।’ এ সময় তিনি নিজের শরীরের ওপর থাকা চাদর সরিয়ে পাঞ্জাবির বোতাম খুলে ভেতরে পরা বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট দেখিয়ে বলেন, ‘আমাদের জীবনের হুমকি আছে, এটা সত্য। দেখেন, এখনো বুকে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরে আছি। জানি না কখন কী হয়, তাই সতর্ক থাকি। মৃত্যুঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও কেবল আপনাদের পাশে থাকার জন্যই এই ঝুঁকি নিয়েছি। ১৭ বছর ধরেই এই ঝুঁকি নিয়ে মাঠে আছি। এখন তো তুলনামূলক ভালো সময়। বিগত ১৭ বছরে আমি এলাকা ছাড়িনি।’

মতবিনিময় সভায় এস এম জিলানী আরও বলেন, তিনি ২০০৮ ও ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। ২০১৮ সালের নির্বাচনের সময় তাঁকে কারাগারে রাখা হয়। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘আমি যদি নির্বাচনে থাকতে পারতাম, কত ভোট পেতাম? আমি কি নির্বাচনে জিতে যেতাম না? কিন্তু আমাকে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছিল।’ সে সময় তাঁর অনুপস্থিতিতে স্ত্রী মনোনয়নপত্র জমা দিলেও তৎকালীন প্রশাসন তা বাতিল করে দেয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এ বিষয়ে কোটালীপাড়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল বশার দাড়িয়া বলেন, ‘আমাদের নেতা এস এম জিলানী এই বার্তাই দিতে চেয়েছেন যে ফ্যাসিস্ট সরকারের নির্যাতন ও নিপীড়নের মধ্যেও তিনি জনগণের পাশে ছিলেন। এখনো তিনি জনগণকে ভালোবাসেন এবং সব সময় নেতা–কর্মীদের পাশে থাকেন। নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়েও মাঠে থাকার বিষয়টি নেতা–কর্মীদের অনুপ্রাণিত করছে।’

মতবিনিময় সভায় স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা–কর্মীদের পাশাপাশি এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। প্রার্থীর এমন ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ ঘিরে সভাস্থলসহ এলাকায় ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে।