কুষ্টিয়ায় বিএনপি অফিস লক্ষ্য করে ককটেল বিস্ফোরণ, আহত ৩
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার পিয়ারপুর ইউনিয়ন বিএনপি কার্যালয় লক্ষ্য করে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। গতকাল রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
আহত ব্যক্তিরা হলেন পিয়ারপুর এলাকার রহমত মণ্ডলের ছেলে মো. ফুরকান কসাই, হাজেদ্দিনের ছেলে মো. এছেম ও আতর আলী কবিরাজের ছেলে মো. ফিরোজ (৪৮)। স্থানীয়রা আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছে। তাঁরা বর্তমানে চিকিৎসাধীন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পিয়ারপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান জহুরুল হক এবং ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুনতাজের মধ্যে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিরোধ চলে আসছে। এ বিরোধের জের ধরে গতকাল রাতে বিএনপি কার্যালয় লক্ষ্য করে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার সময় বিএনপি কার্যালয়ে মুনতাজের ৮ থেকে ১০ জন কর্মী-সমর্থক অবস্থান করছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সাবেক চেয়ারম্যান জহুরুল হকের সমর্থক হিসেবে পরিচিত ৮-১০ জন ব্যক্তি অতর্কিতভাবে সেখানে বিএনপি অফিস লক্ষ্য করে কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়।
ককটেল বিস্ফোরণে মো. ফুরকান কসাই, মো. এছেম ও মো. ফিরোজ আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জহুরুল হক অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘তারা নিজেরাই নিজেদের অফিসে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আমার ও আমার লোকজনের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর চেষ্টা করছে। এ ঘটনার সঙ্গে আমি বা আমার সমর্থকদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।’
এ বিষয়ে মুনতাজের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
দৌলতপুর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবিদ হাসান মন্টি সরকার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, বিএনপি কার্যালয় লক্ষ্য করে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, বিএনপি অফিসে ককটেল বিস্ফোরণের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কাজ চলছে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন আছে।