৩৬ বছর পর টাঙ্গাইল সদর থেকে প্রতিমন্ত্রী হলেন সুলতান সালাউদ্দিন, আনন্দমিছিল

নির্বাচিত সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকুফাইল ছবি

টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকু প্রতিমন্ত্রী হিসেবে আজ মঙ্গলবার বিকেলে শপথ নিয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ৩৬ বছর পর টাঙ্গাইল সদর থেকে নির্বাচিত কেউ মন্ত্রিসভায় স্থান পেলেন। তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক।

সুলতান সালাউদ্দিন মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়ায় শুধু তাঁর সমর্থক নয়, টাঙ্গাইল সদরবাসী আনন্দিত। শেখ মুজিবুর রহমান, জিয়াউর রহমান, এইচ এম এরশাদের মন্ত্রিসভায় টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্যরা পূর্ণ মন্ত্রী ছিলেন। দীর্ঘদিন পর সুলতান সালাউদ্দিন মন্ত্রিত্ব পাওয়ায় তিন দশকের বেশি সময়ের শূন্যতা পূরণ হলো।

আজ বিকেলে সুলতান সালাউদ্দিনের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁর সমর্থকেরা আনন্দমিছিল বের করেন। তাঁরা শহরের শহীদ মিনার থেকে মিছিল নিয়ে পথচারীদের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করেন।

শহরের আকুর–টাকুরপাড়ার বাসিন্দা মাহবুবুর রহমান বলেন, ১৯৯১ সালের সংসদ নির্বাচনের পর থেকে টাঙ্গাইল সদরের মানুষ মন্ত্রী না পেয়ে আশাহত হয়েছেন। এবার তাঁদের সেই আশা পূরণ হলো।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সর্বশেষ সদর থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মেজর জেনারেল (অব.) মাহমুদুল হাসান ছিলেন এরশাদ সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এরশাদের পতনের পর তাঁর মন্ত্রিত্ব চলে যায়। তিনি কারাবন্দী হন। কারাগারে থেকেই জাতীয় পার্টির মনোনয়নে ১৯৯১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে ১৯৯৪ সালে তিনি বিএনপিতে যোগদান করেন। এরপর ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুল মান্নান সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রিসভার স্বরাষ্ট্র ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী ছিলেন তিনি। সেবার সদরবাসী আশা করেছিলেন, তিনি শেখ হাসিনার মন্ত্রিসভায় স্থান পাবেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি মন্ত্রী হতে পারেননি।

টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়ায় তাঁর সমর্থকরা মঙ্গলবার বিকেলে টাঙ্গাইল শহরে আনন্দমিছিল বের করেন। এ সময় তাঁরা পথচারীদের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করেন
ছবি: প্রথম আলো

২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদুল হাসান সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সেবার টাঙ্গাইল জেলা থেকে চারজন মন্ত্রিসভায় স্থান পেলেও মাহমুদুল হাসান মন্ত্রী হতে পারেননি। ২০০৮ সালের নির্বাচনে মহাজোটের প্রার্থী জাতীয় পার্টির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবুল কাশেম ও পরবর্তী সময়ে ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছানোয়ার হোসেন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন, কিন্তু কেউই মন্ত্রী হতে পারেননি। ফলে দীর্ঘদিন পর এবার মন্ত্রী পেলেন সদরবাসী।

জেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মাহমুদুল হক বলেন, সুলতান সালাউদ্দিন মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়ায় শুধু দলের নয়, সদর উপজেলার প্রতিটি মানুষ আনন্দিত। দীর্ঘদিন পর সদর থেকে মন্ত্রী হওয়ায় তাঁরা সবাই অনেক খুশি হয়েছেন। সদরের উন্নয়নে সুলতান সালাউদ্দিন অনেক বেশি ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে তিনি মনে করছেন।