আজ বুধবার সকালে মামলার বিষয়ে চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় পৌর আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে গিয়ে কথা হয় মামলার বাদী ও দলীয় কার্যালয়ের অফিস সহকারী আবদুল মান্নান শেখের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমি ছিলামই না, অফিস বন্ধ ছিল। আমি বিয়ের দাওয়াতে গেছিলাম।’

ঘটনাটি কখন ঘটেছিল জানতে চাইলে মান্নান শেখ বলেন, ‘কসম, আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না। এখানে আলাউদ্দিন এসআই ছিল। ওই স্যার আমারে বারবার ফোন দিয়া অস্থির কইরা ফেলছে। আমি বলছি, স্যার, আমি দাওয়াতে আছি। আমি দাওয়াতে থাইক্যা মামলা করালাম কীভাবে? আমি ছিলামও না, দেখিও নাই। স্যারেগো আমি কইছিলাম, স্যার, আমারে আপনারা ঝামেলায় ফালাইয়েন না।’

মামলায় আসামির তালিকায় উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোহাম্মাদ হেলাল উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক পারভেজ আহম্মেদ, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির শ্রমবিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবীর খান, পৌর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. সাইজুদ্দিন, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জাফর ইকবাল, পৌর কাউন্সিলর সারোয়ার হোসেনসহ ১১ নেতা-কর্মীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে ১০০ থেকে ১৫০ জনকে। এর মধ্যে গতকাল রাতে সারোয়ার হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। আজ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

গাজীপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহ রিয়াজুল হান্নান বলেন, এমন কোনো ঘটনাই সেদিন ঘটেনি। এটি গায়েবি মামলা। বিএনপির নেতা–কর্মীদের দমিয়ে রাখার জন্যই সাজানো ঘটনা দিয়ে মামলা দেওয়া হচ্ছে। সারা দেশেই সরকার বিএনপির সমাবেশে লোকসমাগম কমিয়ে রাখতে এই গায়েবি মামলা শুরু করেছে।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, আসামিরা চন্দ্রার দিকে আসার সময় অতর্কিতে আওয়ামী লীগ কার্যালয় লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকেন। মামলার বাদী কিছু বোঝার আগেই মিছিলের মধ্য থেকে পরপর কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে। বাদীর চিত্কারে আশপাশের লোকজনসহ চন্দ্রা এলাকায় নিয়োজিত টহল পুলিশ এগিয়ে এলে মিছিলের লোকজন দিগ্‌বিদিক ছোটাছুটি করে পালিয়ে যান। টহল পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বিস্ফোরিত ককটেলের অংশবিশেষ এবং অবিস্ফোরিত পাঁচটি ককটেল উদ্ধার করে।

তবে দলীয় কার্যালয়ের পাশেই বিকাশের দোকানদার আইয়ুব আলী বলেন, ‘আমাদের দোকান খোলা ছিল, কিন্তু কোনো ককটেল বিস্ফোরণের শব্দ পাইনি। হামলার ঘটনাও জানা নেই।’

ঘটনার বিষয়ে মামলার বাদী ও আশপাশের লোকজনের বক্তব্য তুলে ধরলে গাজীপুরের পুলিশ সুপার কাজী শফিকুল আলম বলেন, বাদী হয়তো ভয়ে বা অন্য কোনো কারণে অস্বীকার করে থাকতে পারেন। ঘটনা সত্য নাকি মিথ্যা, সেটি তদন্ত করে দেখা হবে।