সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
সাদা দলের শিক্ষকদের ওপর হামলা ও উপাচার্যের অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে মানববন্ধন
সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের অনিয়ম, দুর্নীতি ও সাদা দলের শিক্ষকদের ওপর হামলার অভিযোগে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। আজ সোমবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির সামনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক–শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর ব্যানারে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
এর আগে গতকাল রোববার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয়ে সাদা দলের শিক্ষকদের সঙ্গে উপাচার্য ও তাঁর পক্ষের শিক্ষক–কর্মকর্তাদের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। সাদা দলের দাবি, এ ঘটনায় তাঁদের এক শিক্ষক ঠোঁটে আঘাত পেয়েছেন এবং অন্যদেরও কিলঘুষি মারা হয়েছে। অন্যদিকে উপাচার্য দাবি করেছিলেন, তাঁর হাতের একটি আঙুল ফেটে গেছে এবং আরও তিন শিক্ষক আহত হয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদা দলের সভাপতি কাজী মেহতাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সহসভাপতি মোজাম্মেল হকের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সাদা দলের সাধারণ সম্পাদক শাহানা বেগম, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সিদ্দিকুল ইসলাম, আতাউর রহমান, কাওসার হোসেন, ইউসুফ মিয়া ও নাজমুল হক।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, উপাচার্য নিয়োগের পর থেকে বিশেষ গোষ্ঠীর পকেটবন্দী হয়ে যান। বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু দুর্নীতিপরায়ণ ও অনিয়মগ্রস্ত লোকের মাধ্যমে এবং তাঁদের পরামর্শে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করে আসছেন। বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পক্ষ, সংগঠন ও শিক্ষকদের পক্ষ থেকে বারবার অনিয়ম বন্ধ করতে বলা হলেও উপাচার্য কোনো কিছুই পরোয়া করছেন না। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষাকার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
বক্তারা অভিযোগ করেন, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের সময় উপাচার্য দিনে ও রাতে বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে নিয়োগ কার্যক্রম চালিয়েছেন। ইউজিসির নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে নিয়োগ চালিয়ে গেছেন। নিয়োগপ্রক্রিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সুযোগ না দেওয়ায় শিক্ষার্থীদের স্পৃহা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। শিক্ষকেরা বহুবার গিয়ে উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেছেন, কিন্তু তিনি এড়িয়ে গেছেন। এর মধ্যে শিক্ষকদের পক্ষ থেকে বারবার যোগাযোগ করার পর নির্বাচনের তিন দিনের মাথায় তিনি সময় দিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে যাওয়ার পর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে। তাঁরা ঘটনার তদন্ত ও উপাচার্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।
সাদা দলের সহসভাপতি মোজাম্মেল হক বলেন, উপাচার্য শিক্ষকদের পদোন্নতি ও পদায়ন বন্ধ করে স্বেচ্ছাচারিতার চরম পর্যায়ে নিয়ে গেছেন। এত দিন ধরে বিষয়গুলো উপাচার্যকে বলা হলেও তিনি এসবের কোনো তোয়াক্কা করেননি। তিনি (উপাচার্য) বলেছেন, তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপাচার্য, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ছাড়া কারও কথা শুনবেন না।
এ বিষয়ে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. আলিমুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেছেন, তিনি কোনো অনিয়মের মাধ্যমে নিয়োগ দেননি।