পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দুপুরে মায়ের হাতে খাবার খেয়ে শিশু সামিউল বন্ধুদের সঙ্গে খেলা করতে বাড়ির পাশের একটি মাঠে যায়। খেলা শেষে বাড়িতে ফেরার সময় সামিউল কালকিনি-খাসেরহাট আঞ্চলিক সড়কটি পারাপার হচ্ছিল। এ সময় বেপরোয়া গতিতে আসা বালুবাহী একটি ট্রলি সামিউলকে চাপা দেয়। গুরুতর অবস্থায় স্থানীয় লোকজন সামিউলকে উদ্ধার করে কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সন্তানের দুর্ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে যান মা পাপিয়া বেগম। কিন্তু হাসপাতালের মর্গে সন্তানের নিথর দেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। আহাজারি করতে করতে পাপিয়া বেগম বলেন, ‘দুপুরে পোলাডা খাইয়া গেল, আর ঘরে ফিরা আইল না। ওরে বাজান তুই আমার বুকে ফিরা আয়। তোরে ছাড়া আমি ক্যামনে বাঁচুম। তোমরা আমার বুকের ধনডারে ফিরাইয়া দাও।’

সামিউলের বাবা কালু সিকদার বলেন, ‘বিয়ের পরে আমাদের সন্তান হচ্ছিল না। বিয়ের অনেক বছর পর সামিউল হয়। সামিউলের দুই বছর পর আরেকটা ছেলে হয়েছে আমাদের। কিন্তু প্রথম ছেলেকে ওর মা খুব ভালোবাসে। অ্যাক্সিডেন্টে সামিউলকে হারিয়ে ওর মা কান্না করতে করতে পাগল হয়ে যাচ্ছে। কোনোভাবেই থামাতে পারছি না।’

এদিকে অবৈধ ট্রলি ও ট্রাক্টরের কারণে কালকিনিতে প্রায়ই এমন দুর্ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কাদের হোসেন হাওলাদার বলেন, ইটভাটার কাজে ব্যবহৃত ট্রলি সড়কে চলাচল করায় সড়কের অবস্থা যেমন খারাপ হচ্ছে, তেমনি প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। আগেও ট্রলিচাপায় মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। আজ আবার এক শিশু মারা গেল। সড়কে অবৈধ ট্রলি চলাচল বন্ধ না হলে ভবিষ্যতে আরও প্রাণহানির ঘটনা ঘটবে।

কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শামীম হোসেন বলেন, ট্রলিচাপায় এক শিশুর মৃত্যুর খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। পুলিশ ট্রলিটি জব্দ করেছে। কিন্তু ট্রলির চালক ঘটনার পর থেকেই পলাতক। চালককে ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।