নিখোঁজ কিশোরীকে খুঁজতে ফ্ল্যাটে পুলিশের অভিযান, ছাদ থেকে পড়ে ছাত্রদল নেতা নিহত

সাভার থানা ছাত্রদলের সহসভাপতি মনারুল হোসেন বকশীছবি: সংগৃহীত

নিখোঁজ এক কিশোরীকে উদ্ধারে ঢাকার সাভারে সরকারি আবাসিক ভবনের ফ্ল্যাটে পুলিশের অভিযানের সময় ছাদ থেকে পড়ে ছাত্রদলের এক নেতা মারা গেছেন। অভিযানের সময় পাঁচতলা ভবনের ছাদ থেকে ভারী কিছু পড়ার শব্দ পেয়ে সবাই নিচে গিয়ে ওই নেতার নিথর দেহ দেখতে পান। হাসপাতালে নেওয়ার পর তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠন করেছে পুলিশ।

ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে। নিহত যুবকের নাম মনারুল হোসেন বকশী (২৯)। তিনি সাভার থানা ছাত্রদলের সহসভাপতি ছিলেন। তাঁর বাবা মো. জাফর আলী বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে (বিপিএটিসি) নিরাপত্তারক্ষী হিসেবে কাজ করেন। সেখানে পাঁচতলাবিশিষ্ট একটি স্টাফ কোয়ার্টারের চতুর্থ তলায় তিনি থাকেন।

নিহত মনারুলের পরিবারের সঙ্গে দেখা করার পর ঘটনা সম্পর্কে যে তথ্য পেয়েছি, সে অনুযায়ী তিনি ছাদ থেকে পড়ে গেছেন, নাকি লাফিয়ে পড়েছেন, নাকি তাঁকে ফেলে দেওয়া হয়েছে সেটি স্পষ্ট নয়। আমরা আশা করব, পুলিশের পক্ষ থেকে তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটন করা হবে।
মাহফুজ ইকবাল, সাধারণ সম্পাদক, ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্রদল

মনারুলের রাজনৈতিক পরিচয় নিশ্চিত করে ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজ ইকবাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘নিহত মনারুলের পরিবারের সঙ্গে দেখা করার পর ঘটনা সম্পর্কে যে তথ্য পেয়েছি, সে অনুযায়ী তিনি ছাদ থেকে পড়ে গেছেন, নাকি লাফিয়ে পড়েছেন, নাকি তাঁকে ফেলে দেওয়া হয়েছে সেটি স্পষ্ট নয়। আমরা আশা করব, পুলিশের পক্ষ থেকে তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটন করা হবে। এ ঘটনায় কার দায় থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।’

ছাত্রদল নেতা মনারুলের মৃত্যুর পেছনে প্রকৃত ঘটনা জানতে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সাভার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম। প্রথম আলোকে বলেন, কমিটির প্রধান করা হয়েছে ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস ও ট্রাফিক উত্তর) মো. জাহাঙ্গীর আলমকে। তবে বিষয়টি নিয়ে নিহত ব্যক্তির পরিবার থানায় শুক্রবার রাত ১১টা পর্যন্ত কোনো অভিযোগ দেয়নি।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এক কিশোরী নিখোঁজ হওয়ার সাধারণ ডায়েরির (জিডি) পরিপ্রেক্ষিতে সাভার মডেল থানা ও রংপুরের পীরগাছা থানার কয়েকজন পুলিশ সদস্য মনারুলদের ফ্ল্যাটে অভিযানে যান। তাঁদের কাছে তথ্য ছিল নিখোঁজ কিশোরী ফ্ল্যাটটিতে অবস্থান করছে। এ বিষয়ে মনারুলের বাবার সঙ্গে কথাবার্তার এক পর্যায়ে ছাদ থেকে ভারী কিছু পড়ার শব্দ পাওয়া যায়।

মনারুলের বাবা জাফর আলী বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে তিনিসহ পুলিশ সদস্যরা ভবনের পঞ্চম তলায় যান। তখন একজন পুলিশ সদস্য ছাদে ওঠেন। এরপরই ধপ করে ছাদ থেকে ভারী কিছু নিচে পড়ার শব্দ পাওয়া যায়। এরপর ছাদে যাওয়া পুলিশ সদস্য নেমে আসেন। তখন সবাই ভবনের নিচে নামেন। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, মারাত্মক আহত অবস্থায় মনারুল পড়ে আছে। তাঁকে অ্যাম্বুলেন্সে করে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

সাভার মডেল থানা ও রংপুরের পীরগাছা থানা–পুলিশ জানায়, ২৩ জুলাই পীরগাছা এলাকার একটি মেয়ে নিখোঁজ হয়। সে উচ্চমাধ্যমিকের ছাত্রী। এ ঘটনায় ২৩ জুলাই মেয়েটির বাবা পীরগাছা থানায় জিডি করেন। ওই কিশোরীকে উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পীরগাছা থানা পুলিশ।

অভিযানে যাওয়া পুলিশ সদস্যদের বরাত দিয়ে পীরগাছা থানার ওসি মো. সেলিম আলী প্রথম আলোকে বলেন, প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে নিখোঁজ কিশোরীকে উদ্ধারে তাঁর থানার চারজন সদস্য প্রথমে সাভার মডেল থানায় যান। পরে ওই থানার আরও কয়েকজন সদস্য মিলে বিপিএটিসির কোয়ার্টারের ওই ভবনে যান। তবে নিখোঁজ কিশোরীকে পাওয়া যায়নি। অভিযানের সময় ওই বাসায় শুধু জাফর আলী ও তাঁর স্ত্রী ছিলেন। তাঁদের বলা হয়েছিল নিখোঁজ কিশোরী ফ্ল্যাটটিতে থাকলে তাকে শুধু নিয়ে যাবে পুলিশ। বিষয়টি নিয়ে আলোচনার সময় নিচে পড়ার শব্দ পেয়ে আশপাশের ফ্ল্যাটের লোকজন ও পুলিশ সদস্যরা ভবনের নিচে নেমে মনারুলকে নিথর আহত অবস্থায় দেখতে পায়।

নিহত ছাত্রদল নেতার বাবা জাফর আলী বলেন, ‘মেয়েটির (নিখোঁজ কিশোরী) সঙ্গে আমার নাতি সৌমিকের প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। এর আগেও প্রেমসংক্রান্ত ঝামেলার কারণে কয়েকবার সৌমিক আমাদের বাসায় এসে থেকেছে। জেনেছি, ওরা দুজন বিয়ে করেছে। এখন তাঁরা কোথায় আছে আমরা নিজেরাও জানি না।’