নিহত শিশুর বাবার নির্দেশে ধর্ষণের পর হত্যা, আসামির স্বীকারোক্তি
পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় ১১ বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও শ্বাসরোধে হত্যাকাণ্ডে প্রধান আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গতকাল সোমবার ওই আসামি (৩৫) সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক।
এর আগে গত রোববার সন্ধ্যায় নিজ বসতঘরের রান্নাঘর থেকে শিশুটির বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সোমবার রাত ৯টায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছেন।
রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, সোমবার আসামিকে আদালতে তোলা হলে তিনি শিশুটিকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যার কথা স্বীকার করেন। আসামি আদালতে আরও স্বীকার করেন, শিশুটির বাবার নির্দেশে তিনি হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। শিশুটির বাবাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ওসি বলেন, নিহত শিশুটির মা দীর্ঘদিন বিদেশে আছেন। মায়ের অবর্তমানে বাবা তার (নিহত শিশু) সমবয়সী এক মেয়ের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। এসব ঘটনা দেখে শিশুটি তার বড় বোনকে জানায়। তখন পরিবারে কলহ দেখা দেয়। বিষয়টি গোপন রাখতে তার বাবা এক আত্মীয়ের সঙ্গে মেয়েকে মেরে ফেলার পরিকল্পনা করেন। হত্যার আগে দুজনের মধ্যে আর্থিক লেনদেনও হয়।
ওসি আরও বলেন, গত শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে আসামি ঘরে ঢুকে শিশুটিকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে একটি বস্তায় ভরে রান্নাঘরের পাশে রাখেন। মেয়ে নিখোঁজের নাটক সাজিয়ে থানায় জিডি করেন বাবা। এসব কথা আদালত ও পুলিশের কাছে আসামি স্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বড় বোন বাদী হয়ে তাঁদের বাবাসহ দুজনকে আসামি করে মামলা করেন। বাবাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার তাঁকে আদালতে তোলা হবে। তবে তদন্তের স্বার্থে এখনই সব প্রকাশ করা যাচ্ছে না।
নিহত শিশুটির শারীরিক পরীক্ষা করা পটুয়াখালী ২৫০ শয্যা হাসপাতালের চিকিৎসা কর্মকর্তা সেঁজুতি সরকার বলেন, গতকাল সোমবার শিশুটির শারীরিক পরীক্ষা করেছেন তাঁরা। শরীরের একাধিক স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। শিশুটির মরদেহ কিছু গলে যাওয়ায় ধর্ষণের বিষয়টি প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা যায়নি। ডিএনএ পরীক্ষায় বাকিটা নিশ্চিত হওয়া যাবে।