বেনাপোলে কাস্টমের গুদাম থেকে ভারতীয় পণ্য পাচারের চেষ্টা, রাজস্ব কর্মকর্তাসহ আটক ৩
যশোরের বেনাপোল কাস্টমের গুদাম থেকে জব্দ করা ভারতীয় পণ্য পাচারের সময় সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তাসহ তিনজনকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ সময় পণ্য পাচারের কাজে ব্যবহৃত একটি কাভার্ড ভ্যান জব্দ ও প্রায় দেড় কোটি টাকার পণ্য উদ্ধার করা হয়েছে।
বেনাপোল সদর বিজিবি ক্যাম্প থেকে সোমবার সন্ধ্যায় আটক তিনজনকে বন্দর থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। এর আগে গতকাল রোববার রাত প্রায় ৩টার দিকে বেনাপোল বাজার এলাকা থেকে তাঁদের আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন কাস্টমসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা (এআরও) ইন্দ্রজিৎ মুখার্জী, কাভার্ড ভ্যানের চালক মহসিন আলী ও তাঁর সহকারী জাহিদ হাসান।
এদিকে ওই ঘটনার পর বেনাপোল কাস্টম হাউসের দুজন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা (এআরও) ও তিনজন সিপাহীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তদন্ত–সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জব্দ হওয়া চালানে উচ্চ শুল্কের ভারতীয় শাড়ি, থ্রি–পিস, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের প্রসাধনসামগ্রী ও আমদানি নিষিদ্ধ ভারতীয় ওষুধ পাওয়া গেছে।
এ সম্পর্কে যশোর-৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে একটি কাভার্ড ভ্যানসহ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত মালামালের হিসাব ও সিজারমূল্য নির্ধারণের কাজ চলছে। তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সম্প্রতি বেনাপোল বন্দরের ৩৭ নম্বর শেড থেকে কাস্টমের জব্দ করা প্রায় ৬ কোটি টাকা মূল্যের ভারতীয় পণ্য উধাও হওয়ার ঘটনায় মামলা হয়েছে। এ ছাড়া ৪১ নম্বর শেড থেকে প্রায় ২৫ টন আমদানিকৃত পণ্য নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগে তদন্ত চলছে। এর আগে ২৬ নম্বর শেড থেকে প্রায় দেড় কোটি টাকা মূল্যের ঘোষণাবহির্ভূত ভারতীয় শাড়ি ও কসমেটিকস জব্দ করা হয়। ধারাবাহিক এসব ঘটনায় বন্দর ও কাস্টমের অভ্যন্তরীণ নজরদারি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছেন।
বেনাপোল কাস্টমসের সহকারী কমিশনার রাহাত হেসেন বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে দুজন এআরও ও তিনজন সিপাহীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।