‘এমন ভোট আগে কখনো দেখিনি’
মাঘ মাস শেষ হয়ে এল। দিনের আলো ফুটলেও তখনো সূর্যের দেখা মেলেনি। চট্টগ্রাম শহরে এই সময়ে যানবাহনের ভিড় না থাকলেও সড়কে বাস, টেম্পুসহ গণপরিবহন চলাচল শুরু হয়ে যায়। সকাল ছয়টা বাজলেও আজ বৃহস্পতিবার সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রাইভেট কার ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা নেই সড়কে। তবে দু–একটি রিকশা ও ব্যাটারিচালিত রিকশা চলছিল। যানবাহন কম হলেও ফয়’স লেক এলাকার নুরিয়া মাদ্রাসা ভোটকেন্দ্রের সামনে দেখা গেল বেশ ভিড়। কেন্দ্রটির সামনে বিভিন্ন দলের এজেন্টদের সঙ্গে বেশ কয়েকজন ভোটারও দাঁড়িয়ে। ভোট শুরুর দেড় ঘণ্টা আগে ভোটারদের এমন উপস্থিতি এর আগের কোনো নির্বাচনে দেখা গেছে কি না, মনে করতে পারছি না।
পশ্চিম বাকলিয়া এলাকায় গিয়ে মনে হলো, ‘ভোট–উৎসব’ কথাটার বাস্তব রূপায়ণ দেখতে পেলাম। লম্বা গলির ভেতরে একটু পরপর ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার কার্ড ঝোলানো কর্মীরা দাঁড়িয়ে। এক জায়গায় বেশ কিছু ব্যাটারিচালিত রিকশা সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ানো। একটি নির্দিষ্ট দলের প্রতীক লাগানো সেখানে। বোঝা গেল, কেন্দ্রে ভোটারদের নেওয়ার জন্য এসব যানবাহন প্রস্তুত করা হয়েছে। মূল সড়কে দোকানপাট বন্ধ থাকলেও এখানে গলির ভেতরের চিত্র আলাদা। ছোট ছোট চায়ের দোকানগুলোয় পরোটা ভাজার ঘ্রাণ নাকে এসে লাগছিল। দোকানগুলোর সামনে ক্রেতাদেরও অভাব নেই।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেখতে বেশ ভোরেই বেরিয়ে পড়েছিলাম। প্রথম গন্তব্য ছিল বাড়ির কাছের ভোটকেন্দ্র নুরিয়া মাদ্রাসা। সেখান থেকে বেরিয়ে রাস্তায় অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা পেয়ে যাই। নাসির উদ্দিন নামের অটোরিকশার চালক থাকেন ঝাউতলা এলাকায়। ভোরের আলো ফোটার আগে কয়েক ট্রিপ ভাড়া মেরে তিনি নিজের বাসার কাছের কেন্দ্রে ভোট দেবেন। নাসির উদ্দিনের সঙ্গে গল্প জমে ওঠে। জিইসি মোড় হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ পার হয়ে চকবাজার, সেখান থেকে বাকলিয়া এলাকায় চলে আসি আমরা। শহরের কোথাও কোনো দোকানপাট খোলা নেই। বিভিন্ন এলাকার সামনে গলির মুখে এত ভোরেও গুচ্ছ গুচ্ছ ভিড়। দু–একটি সেনাবাহিনীর টহল গাড়ি নির্জনতা ভেঙে ছুটে যাচ্ছে সামনে।
পশ্চিম বাকলিয়া এলাকায় গিয়ে মনে হলো, ‘ভোট–উৎসব’ কথাটার বাস্তব রূপায়ণ দেখতে পেলাম। লম্বা গলির ভেতরে একটু পরপর ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার কার্ড ঝোলানো কর্মীরা দাঁড়িয়ে। এক জায়গায় বেশ কিছু ব্যাটারিচালিত রিকশা সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ানো। একটি নির্দিষ্ট দলের প্রতীক লাগানো সেখানে। বোঝা গেল, কেন্দ্রে ভোটারদের নেওয়ার জন্য এসব যানবাহন প্রস্তুত করা হয়েছে। মূল সড়কে দোকানপাট বন্ধ থাকলেও এখানে গলির ভেতরের চিত্র আলাদা। ছোট ছোট চায়ের দোকানগুলোয় পরোটা ভাজার ঘ্রাণ নাকে এসে লাগছিল। দোকানগুলোর সামনে ক্রেতাদেরও অভাব নেই।
বাকলিয়া সরকারি উচ্চবিদ্যালয় এলাকায় পাশাপাশি তিনটি ভোটকেন্দ্র। সকাল সাতটার দিকে এই কেন্দ্র তিনটির বাইরে ভোটারদের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেল। সেখানকার এক ভোটার মো. সেলিমের বয়স ৪৫ বছর হবে। ভোটের উত্তেজনায় বন্ধুদের সঙ্গে বেরিয়ে পড়েছেন সকাল সকাল। তিনি বলেন, ‘ঘরে থাকার উপায় নেই। সকাল সকাল বন্ধুদের সঙ্গে বেরিয়েছি ভোট দেব। এসে দেখি, আমার আগেও প্রচুর মানুষ এসে দাঁড়িয়ে আছেন। এমন ভোট আগে কখনো দেখিনি।’
সকাল সাড়ে ৯টায় ঝাউতলা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে দেখা গেল ভোটারদের লাইন নিয়ন্ত্রণ করছেন কয়েকজন আনসার সদস্য। এখানে প্রচুর উর্দুভাষী ভোটার রয়েছেন। এখানে কথা হয় ভোটার আবুল কালামের সঙ্গে। ৫২ বছর বয়সী কালাম মুদির দোকানের মালিক। ভোট দিয়ে ফিরে যাচ্ছিলেন তিনি। কালাম বলেন, ‘এমন ভোটের পরিবেশ আগে দেখিনি। চারদিকে মনে হচ্ছে ঈদের আনন্দ।’
অটোরিকশার চালক মো. রাজীব ভোট দিয়ে ভীষণ উচ্ছ্বসিত। তিনি বলেন, ‘দেশের মানুষের এত দিন দাম ছিল না। এখন রাজনীতিবিদেরা দেশের লোককে তোয়াজ করবে, মূল্য দেবে। হাতে ভোট না থাকলে জনগণের আবার কিসের দাম।’
চট্টগ্রাম জেলায় মোট সংসদীয় আসন রয়েছে ১৬টি। এসব আসনে মোট ভোটার ৬৬ লাখ ৮২ হাজার ৫১৭। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৩৪ লাখ ৮৩ হাজার ৮৮৭ জন, নারী ভোটার ৩১ লাখ ৯৮ হাজার ৫৬০ ও হিজড়া ভোটার ৭০ জন। এসব আসনে মোট ২৪টি রাজনৈতিক দল প্রার্থী দিয়েছে। সব মিলিয়ে প্রার্থী রয়েছেন ১১৫ জন। এর মধ্যে বিএনপির ১৬ জন, ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের ১৬ ও স্বতন্ত্র ১০ জন।
চট্টগ্রামের ১৬টি আসনে মোট ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১ হাজার ৯৬৫টি। এর মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ৬৫৫টি। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র চট্টগ্রাম–১৫ (লোহাগাড়া ও সাতকানিয়া) আসনে। এ আসনের ৫৯টি কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ। এ ছাড়া নগরের খুলশী থানার ৪৭টি কেন্দ্রের ৪৪টিই ঝুঁকিপূর্ণ।