থানায় শাড়ি-চুড়ি নিয়ে যাওয়ার পর ভৈরবে ছিনতাইকারী সন্দেহে গ্রেপ্তার ২২

ভৈরব থানা পুলিশের হাতে ছিনতাইকারী সন্দেহে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের একাংশ
ছবি: সংগৃহীত

চুরি–ছিনতাইয়ে অতিষ্ঠ কিশোরগঞ্জের ভৈরববাসী গতকাল শনিবার ভিন্নধর্মী এক প্রতিবাদ জানায়। স্থানীয় কয়েক শ জনতা বিক্ষোভ করে ভৈরব থানায় শাড়ি ও চুড়ি নিয়ে যান। এ ঘটনার পর নড়েচড়ে বসেছে থানার পুলিশ। ২৪ ঘণ্টায় অভিযান চালিয়ে ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে ২২ জনকে আটক করা হয়েছে। পরে সবাইকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আজ রোববার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

আরও পড়ুন

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. হেলাল (২৫), রায়হান উদ্দিন (২০), সবুজ মিয়া (২৩), মো. নাঈম (২৩), আরাফাত মিয়া (৩৩), ওসমান মিয়া (১৮), সোহেল মিয়া (২৮), ফুল মিয়া (৩৬), মো. হৃদয় (২৫), রনি মিয়া (৩২), বিল্লাল মিয়া (২০), সানি মিয়া (৩৩), মো. বিজয় (২৮), সুমন (২০), মাহিন মিয়া (২১), নামিন উদ্দিন (২০), মনির হোসেন (২৮), ফরহাদ মিয়া (২৫), মো. আকাশ (৩২), গোলাম মোস্তুফা (৪২), জনি মিয়া (২৬) ও দুলাল (৪৫)।

ছিনতাই ইস্যুতে কথা হয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার ফুহাদ রুহানির সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘ছিনতাই যেমন হচ্ছে, তেমনি ধরাও হচ্ছে। সমস্যা হলো ছিনতাকারীদের বেশি দিন জেলে আটকে রাখা যাচ্ছে না। ফলে আমাদের কষ্টের ফল আসছে না। ছিনতাই প্রতিরোধে সবার সহযোগিতা দরকার।’

ভৈরবে ছিনতাইয়ের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা সামাজিক আন্দোলনের উদ্যোক্তাদের একজন আজহারুল ইসলাম। পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার বিরুদ্ধে বিক্ষোভের পর তাদের তৎপরতা দেখে তিনি বলেন, ‘চাইলে সব সম্ভব।’

শনিবার বিকেলে বিক্ষুব্ধ জনতা ছিনতাই মুক্ত ভৈরবের দাবিতে বিক্ষোভ করে। পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে বিক্ষুব্ধরা শাড়ি-চুড়ি নিয়ে থানায় যান। ভৈরবকে ছিনতাইমুক্ত করতে ওসি খন্দকার ফুয়াদ রুহানীকে তিন দিনের সময়সীমা দেন। এর প্রথম দিনে ভৈরবে কোনো ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে পুলিশ ও এলাকাবাসী।

স্থানীয় লোকজন বলছেন, প্রত্যাশিত ফল না এলে আবার থানা ঘেরাও করা হবে। বিষয়টি নজরে আনা হলে ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শবনম শারমিন বলেন, ছিনতাই প্রতিরোধে পৌরসভার পক্ষ থেকে ভৈরবের প্রধান সড়ক সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। ছিনতাই প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ নেওয়া হবে।