জামালপুরে স্ত্রীকে হত্যার পর মরদেহ পোড়ানোর চেষ্টা, আইনজীবী স্বামী আটক

জামালপুর শহরে নিজ বাড়ির শয়নকক্ষে এক গৃহবধূকে ছুরিকাঘাত ও শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ তাঁর স্বামীকে আটক করে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে জামালপুর শহরের দড়িপাড়া এলাকায়ছবি: প্রথম আলো

জামালপুর শহরে নিজ বাড়ির শয়নকক্ষে স্ত্রীকে ছুরিকাঘাত ও শ্বাসরোধে হত্যার পর মরদেহ পুড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ওই স্বামীকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত একটার দিকে শহরের দড়িপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত গৃহবধূ তাহমিনা আক্তার (৩৬) জামালপুর শহরের দড়িপাড়া এলাকার বাসিন্দা হোসাইন মো. তাইফুরের স্ত্রী। তাইফুর আইনজীবী। এই দম্পতির ১২ বছর বয়সী এক ছেলে ও ১০ বছর বয়সী কন্যাসন্তান আছে।

পুলিশের ভাষ্য, পারিবারিক কলহের জের ধরে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। স্ত্রীকে হত্যার পর ঘটনা ভিন্ন খাতে নিতেই ঘরের মধ্যে আগুন দেওয়া হয়। আগুনে নিহত গৃহবধূর মরদেহ কিছুটা পুড়েও গিয়েছিল।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৭ বছর আগে জামালপুর শহরের মুকুন্দবাড়ী এলাকার আবু তাহেরের মেয়ে তাহমিনা আক্তারে সঙ্গে দড়িপাড়া এলাকার প্রয়াত নজরুল মাস্টারের ছেলে হোসাইন মো. তাইফুরের বিয়ে হয়। সম্প্রতি সময়ে তাইফুর রহমান মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন। এর পর থেকে তাঁদের মধ্যে কলহ লেগেই থাকত। গতকাল বৃহস্পতিবার তাঁদের দুই সন্তান নানাবাড়িতে ছিল। বাড়িতে কেউ ছিল না। হঠাৎ গভীর রাতে দুজনের মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়। দুজন চিৎকার-চেঁচামেচি করছিলেন। রাত সাড়ে ১২টার দিকে চিৎকার-চেঁচামেচি বন্ধ হয়ে যায়। এর মধ্যে বিছানার ওপর স্ত্রীর মরদেহ রেখে ঘরে আগুন ধরিয়ে দেন তাইফুর। ঘর থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে যান। কিন্তু ঘরের দরজা আটকানো ছিল। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা গিয়ে দরজা ভেঙে তাইফুরকে আটক এবং মরদেহটি উদ্ধার করেন।

নিহত গৃহবধূর মামা মনোয়ার ইসলাম বলেন, ‘তাহমিনা বাবার বাড়িতেই ছিল। গতকাল রাতে তাকে এই বাড়িতে আনা হয়। রাত একটার দিকে তাহমিনার ভাই আমাকে ফোন করে বিষয়টি জানায়। এসে দেখি, তাকে হত্যা করে ঘটনা ভিন্ন খাতে নিতে মরদেহ পুড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে তাইফুরকে পুলিশ আটক করেছে। বেশ কিছুদিন ধরে তাইফুর মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে। এর পর থেকেই তাদের সংসারে কলহ লেগেই থাকত। আর এখন তো সবই শেষ।’

জামালপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ইয়াহিয়া আল মামুন বলেন, ‘পারিবারিক কলহের জের ধরেই স্ত্রীকে প্রথম ছুরিকাঘাত ও পরে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডকে ভিন্ন খাতে নিতেই ঘরে আগুন দিয়ে মরদেহ পুড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টাও করা হয়। স্থানীয় ব্যক্তিদের মাধ্যমে খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল যাই। কক্ষের দরজা আটকানো ছিল। একটি কক্ষে আগুন দেওয়া হয়। আর অন্য কক্ষে অভিযুক্ত ব্যক্তি ছিলেন। পরে দরজা ভেঙে তাঁকে আটক করা হয়। আজ শুক্রবার দুপুরে লাশের ময়নাতদন্ত হবে। এ ঘটনায় থানায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন আছে।’