পুলিশ ও বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জ্বালানি তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ও ভোলায় গুলিতে বিএনপির দুই নেতা নিহত হওয়ার প্রতিবাদে গত ৩১ আগস্ট দুপুরে মদনের চানগাঁও শাহপুর ঈদগাহ মাঠে বিএনপির নেতা-কর্মীরা সমাবেশে জড়ো হন। এ সময় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরাও একই স্থানে জড়ো হতে থাকেন। এতে দুই দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া শুরু হলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। একপর্যায়ে পুলিশ লাঠিপেটা শুরু করলে বিএনপির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। এ সময় মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফেরদৌস আলম, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) খোরশেদ আলম, কনস্টেবল আজিজুল ইসলামসহ আওয়ামী লীগ ও বিএনপির অন্তত ১৮ জন আহত হন।

এ ঘটনায় ওই দিন রাতে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) দেবাশীষ দত্ত বাদী হয়ে সরকারি কাজে বাধা ও হামলার অভিযোগ এনে মামলা করেন। মামলায় উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. নুরুল আলমকে প্রধান করে ২৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২৩০ জন বিএনপি নেতা-কর্মীকে আসামি করা হয়। আজ সোমবার মামলার ৭৪ জন আসামি আদালতে হাজিরা দিতে গেলে বিচারক ৭৩ জনের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী শফিউল হক বলেন, মামলার ৭৪ জন আসামি উচ্চ আদালত থেকে জামিনে ছিলেন। মেয়াদ শেষ হওয়ায় আজ দুপুরে তাঁরা নিম্ন আদালতে হাজিরা দিতে যান। পরে পরীক্ষার্থী নবাব মিয়া ছাড়া বিচারক অন্যদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

জেলা বিএনপির সদস্যসচিব মো. রফিকুল ইসলাম হিলালী মুঠোফোনে প্রথম আলোকে  বলেন, ‘গত ৩১ আগস্ট পূর্বনির্ধারিত স্থানে আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চলাকালে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের কর্মীরা বিএনপির নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়ে আহত করে। পরে উল্টো পুলিশ বিএনপির নেতা-কর্মীদের ওপর মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। এ ঘটনায় আমরা নিন্দা জানাই। আশা করি আদালত বিষয়টি বিবেচনা করবেন।’