বিগত সরকারের অনেক প্রকল্প আমরা গিলতেও পারছি না, ফেলতেও পারছি না: রেল প্রতিমন্ত্রী
রেলপথ ও সড়ক পরিবহন প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেছেন, ‘বিগত দিনের সরকারগুলো অনেক ক্ষেত্রে বেশ কিছু অপরিপক্ব প্রকল্প নিয়েছে। এগুলো আমরা গিলতেও পারছি না, ফেলতেও পারছি না। এখন আমরা যেটা করছি, আমাদের সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আমরা কাজ করছি। সে ক্ষেত্রে আমরা মূল যে সড়কগুলো, সেটির কাজ করছি। রেলের ক্ষেত্রেও আমরা মূল যে রেললাইন, ট্রেন, স্টেশনসহ যাত্রীসেবার মানোন্নয়নে কাজ করছি।’
আজ শুক্রবার সকালে নেত্রকোনা জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন হাবিবুর রশিদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান। এ ঘটনায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, নেত্রকোনা-৪ (মোহনগঞ্জ-মদন-খালিয়াজুরী) আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবর, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব দেলোয়ার হোসেন, মহাপরিচালক খালেদ কনক, পরিচালক নৃপেন্দ্রনাথ বিশ্বাস, পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য দেন।
প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চান জনগণ যেন সহজে সেবা পান। অর্থাৎ জনগণের দোরগোড়ায় যেন সেবা পৌঁছে যায়। আমাদের এই সরকার মাত্র চার মাস হয়েছে। এরই মধ্যে আপনারা দেখছেন এই সরকারের গতি অনেক ব্যাপক। এই সরকার হিংসার বশবর্তী হয়ে কোনো ধরনের কাজ করছে না। অর্থাৎ যে কাজ করলে জনগণ ভালো থাকবে, অল্প সময়ে অধিক মানুষ সুফল ভোগ করবে, সরকার সে অনুযায়ী কাজ করছে।’
নেত্রকোনার যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নে বেশ কিছু প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেন, এসব প্রকল্পের কিছু কাজ চলমান, আবার কিছু পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে রেলপথে যোগাযোগের জন্য ঢাকা-মোহনগঞ্জ রেলপথে আন্তনগর ট্রেনের আসনসংখ্যা বৃদ্ধি, বন্ধ হয়ে যাওয়া কমিউটার ট্রেনটি চালু, নেত্রকোনার চল্লিশা, হিরনপুরসহ বন্ধ হয়ে যাওয়া কয়েকটি রেলস্টেশন চালু, জরাজীর্ণ স্টেশনগুলো সংস্কারসহ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া জারিয়া থেকে বিরিশিরি পর্যন্ত নতুন করে রেললাইন নির্মাণের পরিকল্পনা আছে। সড়কপথ উন্নয়নে নেত্রকোনার রাজুর বাজার থেকে বিরিশিরি সড়কে ঢেউটুকোন এলাকায় কংস নদের ওপর সেতু, দুর্গাপুরে সোমেশ্বরী, কলমাকান্দায় মহাদেব নদসহ বিভিন্ন স্থানে অন্তত আটটি নদ–নদীর ওপর সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিজয়পুর স্থলবন্দর, কলমাকান্দায় বাইপাস সড়ক, শ্যামগঞ্জে বাইপাস সড়কসহ বেশ কিছু সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ‘একটা কথা প্রচলন আছে—জাল যার, জলাধার তার। এ কথাটা বাস্তবে প্রয়োগ করতে আমরা এখন নেত্রকোনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবর মহোদয়ের নেতৃত্বে মদন, খালিয়াজুরী ও মোহনগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন হাওরে যাচ্ছি। সেখানে আমরা হাওরগুলোতে মাছের পোনা অবমুক্ত করব। আমাদের সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জলাশয়গুলোতে যেন সহজেই জাল ফেলে জেলেরা মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতে পারে। আমরা ইতিমধ্যে বেশ কিছু জলাশয় উন্মুক্ত করে দিয়েছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘সরকার ইতিমধ্যে বিভিন্ন খাল ও নদী খনন কর্মসূচি শুরু করেছে। নেত্রকোনার বেশ কিছু হাওরের তলদেশ ভরাট হয়ে গেছে। এসব হাওরের তলদেশ খনন করা প্রয়োজন। এ ছাড়া ধনু নদ খনন করার একটা দাবি উঠেছে এ বিষয়টাও আমাদের মাথায় আছে। মা মাছ এবং পোনামাছ যাতে মারা না পড়ে এসব বিষয়ে আইনের যথাযথ প্রয়োগ করা হচ্ছে।’
নিজের নির্বাচনী এলাকায় হাওরাঞ্চলে কৃষি কার্ড প্রণয়নে অনিয়মের বেশ কিছু অভিযোগ পেয়েছেন জানিয়ে সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবর বলেন, ‘যখন তালিকা করা হয়, তখন প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত অনেক কৃষকের নাম বাদ গিয়েছে। আবার একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তির নামেও কার্ড হয়েছে। এই বিষয়গুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বলা হয়েছে। জেলা প্রশাসককে অনুরোধ করা হয়েছে, যেসব পরিবারে একাধিক ব্যক্তির নামে কার্ড হয়েছে, তা স্থগিত করে যারা প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত, তাদের যেন এই তালিকায় আনা হয়।’