হজের জন্য জমা দেওয়া ৫ লাখ টাকা নিয়ে উধাও মোয়াল্লেম

প্রতারণা
প্রতীকী ছবি

হজে যাওয়ার জন্য দেওয়া যশোরের এক ব্যক্তির ৫ লাখ ১০ হাজার টাকা নিয়ে উধাও হয়ে গেছেন ঢাকার হজ এজেন্সির দুই প্রতিনিধি। এর ফলে আশরাফ আলী নামের ওই ব্যক্তি এ বছর হজে যেতে পারছেন না। এ বিষয়ে গত শনিবার যশোর কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। আশরাফ আলী যশোর জিলা স্কুল মসজিদের খতিব ও সদর উপজেলার আড়পাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

অভিযুক্ত দুই ব্যক্তি হলেন যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার দয়ারামপুর গ্রামের বাসিন্দা আবু হুরায়রা ও দুর্গাপুর গ্রামের মো. নোমান। তাঁরা ঢাকার স্মার্ট ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস নামে একটি হজ এজেন্সিতে মোয়াল্লেম হিসেবে কাজ করেন। এ বিষয়ে জানার জন্য যশোর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল হাসনাতের মুঠোফোন একাধিকবার যোগাযোগ করেও তাঁর সাড়া মেলেনি।

অভিযোগকারী ও জিডি সূত্রে জানা গেছে, এ বছর হজ পালনে যাওয়ার জন্য আশরাফ আলীর সঙ্গে ৫ লাখ ১০ হাজার টাকায় চুক্তিবদ্ধ হন আবু হুরায়রা। কয়েকজনের উপস্থিতিতে আবু হুরায়রা ওই টাকা নেন। এরপর ঢাকার স্মার্ট ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলসের যশোর প্রতিনিধি মো. নোমানের সঙ্গে আশরাফকে পরিচয় করিয়ে দেন আবু হুরায়রা। এরপর ওই প্রতিষ্ঠানের অনলাইনের মাধ্যমে আশরাফের নিবন্ধন নম্বর, টিকা দেওয়াসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও তথ্য সরবরাহ করা হয়। হজযাত্রা শুরুর কয়েক দিন আগে নোমান ফোন করে আশরাফকে বলেন, আবু হুরায়রা তাঁর (আলী আশরাফ) হজ নিবন্ধনের পুরো টাকা দেননি। এর পর থেকে মুঠোফোন নম্বরও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। অবশিষ্ট টাকা না দিলে হজ নিবন্ধন বাতিল করা হবে।

আশরাফ আলী বলেন, ‘আমাকে হজে পাঠানোর জন্য আবু হুরায়রা নামের একজন মোয়াল্লেমের সঙ্গে ৫ লাখ ১০ হাজার টাকায় চুক্তি হয়। আবু হুরায়রা আমার সঙ্গে নোমান নামের একজনকে পরিচয় করিয়ে জানান, হজের সবকিছু নোমান দেখবে। হঠাৎ একদিন ফোন করে নোমান বলেন, “আপনার হজ নিবন্ধনের জন্য হুরায়রা আমাকে মাত্র ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা দিয়েছে। বাকি টাকা না দিলে নিবন্ধন রিপ্লেসমেন্ট করা হবে।” তখন আমি বলেছি, আমি নিবন্ধন নম্বরসহ যেসব দলিল ডকুমেন্টস পেয়েছি, তা তো ৩ লাখ ৩০ হাজারের। আপনি, হুরায়রা আর আপনাদের প্রতিষ্ঠান আমার সঙ্গে প্রতারণা করছেন বলে জানিয়ে দিই। এরপর আমি নিজে হুরায়রার বাড়িতে গেছি। কিন্তু বাড়িটি তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখেছি। এ বছর হজের নিয়ত করেও দালালের খপ্পরে পড়ে আমি বঞ্চিত হলাম।’

আবু হুরায়রার মুঠোফোনে যোগাযোগ করেও সাড়া মেলেনি। তবে মো. নোমান বলেন, ‘আশরাফ আলীর হজ নিবন্ধনের জন্য আবু হুরায়রা আমাকে মাত্র ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা দিয়েছে। তার অনুরোধে বাকিতে নিবন্ধনসহ সব কাজ করে দিয়েছিলাম। কিন্তু সে টাকা মেরে দিয়ে হাওয়া হয়ে গেছে।’