নেপালে আন্তর্জাতিক মৌ চাষ সম্মেলনে তুলে ধরা হচ্ছে সুন্দরবনের মধুর বৈচিত্র্য, সংগ্রহপদ্ধতি

নেপালের অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড ফরেস্ট্রি ইউনিভার্সিটিতে আজ সোমবার শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক মৌ চাষ সম্মেলনছবি : বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের সৌজন্যে

নেপালের অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড ফরেস্ট্রি ইউনিভার্সিটিতে আজ সোমবার শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক মৌ চাষ সম্মেলন। বিশ্বের প্রায় ২০টি দেশের গবেষক, কৃষিবিজ্ঞানী, মৌ চাষবিশেষজ্ঞ ও নীতিনির্ধারকদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ সম্মেলন চলবে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত। সম্মেলনে আধুনিক মৌ চাষ, কৃষি উৎপাদনে পরাগায়নের ভূমিকা, মানবস্বাস্থ্য এবং গ্রামীণ জীবিকার উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।

এবারের সম্মেলনের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের সুন্দরবনের মধু। ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) স্বীকৃতি পাওয়ার পর প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক এই মঞ্চে মধুটি গুরুত্বসহকারে উপস্থাপিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, এর মাধ্যমে বিশ্ববাজারে সুন্দরবনের মধুর নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হতে পারে।

সম্মেলনে বাংলাদেশ থেকে ১২ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল অংশ নিয়েছে। এই দলে রয়েছেন গবেষক, মধু উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী ও একজন প্রান্তিক মৌয়াল। তাঁদের অংশগ্রহণে দেশের মৌ খাতের বৈচিত্র্য ও বাস্তব চিত্র উঠে আসছে, যেখানে বিজ্ঞান, জীবিকা ও বাণিজ্য একে অপরের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত।

ওই প্রতিনিধিদলে আছেন হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক আতিকুল ইসলাম। আজ সকালে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘বাংলাদেশ দল দুটি পোস্টার পেপার এবং একটি মৌখিক উপস্থাপনা করছে। একটি পোস্টারে সুন্দরবনের মধুর বৈচিত্র্য, সংগ্রহপদ্ধতি, মৌয়ালদের ঝুঁকি এবং বিভিন্ন ফুলের উৎস তুলে ধরা হয়েছে। অন্য পোস্টারে ১৯৫৮ সাল থেকে দেশের মৌ চাষ খাতের বিকাশ এবং বিভিন্ন অঞ্চলের উৎপাদনচিত্র উপস্থাপন করা হচ্ছে। পাশাপাশি তিনি ‘মধু ভেজাল শনাক্তকরণ প্রযুক্তি’ বিষয়ে একটি উপস্থাপনা করছেন, যেখানে সহজে ভেজাল মধু শনাক্ত করার পদ্ধতি তুলে ধরা হয়েছে।’