সোহাগ মিয়া যশোরের শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া সাতমাইল গ্রামের মহর আলী সরদারের ছেলে। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে রিমা বেগম বলেন, তাঁর স্বামী স্থানীয় গরুর হাটে দিনমজুর হিসেবে কাজ করেন। ১৪ সেপ্টেম্বর গভীর রাত থেকে পরদিন বেলা ১১টা পর্যন্ত বিজিবি সদস্যরা সোনার বার উদ্ধারের নামে তাঁদের বাড়িতে অভিযান চালান। তখন বাড়িতে কোনো কিছু না পেলেও তাঁরা (বিজিবি) সোহাগকে ধরে নিয়ে নির্যাতন করেন। এরপর ১৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ইয়াবা, ফেনসিডিল, গাঁজাসহ আটক দেখিয়ে বিজিবির পক্ষ থেকে বেনাপোল বন্দর থানায় মামলা করা হয়। একই সঙ্গে ওই মামলায় সোহাগের ছোট ভাই মিলনসহ চারজনকে আসামি করা হয়েছে।

১৬ সেপ্টেম্বর বেনাপোল বিওপির সুবেদার মো. আহসান উল্লাহ বাদী হয়ে বেনাপোল বন্দর থানায় এ বিষয়ে মামলা করেন।

রিমা বেগম বলেন, ‘আমি সরকার ও প্রশাসনের কাছে জানতে চাই, অভিযানের সময় বিজিবি আমাদের বাড়ি থেকে কোনো ধরনের মাদকদ্রব্য বা অবৈধ পণ্য উদ্ধার করতে পারেনি। তাহলে আমার স্বামী ও দেবরের বিরুদ্ধে কীভাবে মাদকের মামলা দেওয়া হলো?’ তিনি বলেন, অভিযানের সময় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) বাড়িঘরে ভাঙচুর করে। এ সময় পরিবারের সদস্যদের বেধড়ক মারধর করে তারা। স্থানীয় বাসিন্দাদের উপস্থিতিতে বিজিবি তাঁদের সঙ্গে এমন আচরণ করেছে।

অভিযোগের বিষয়ে বিজিবির বক্তব্য জানার জন্য যোগাযোগ করা হয় যশোর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল শাহেদ মিনহাজ সিদ্দিকীর সঙ্গে। আজ সন্ধ্যা ৬টার দিকে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা সত্য নয়। বড় বাবু নামে পরিচিত সোহাগ মিয়া সোনা চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত। ১৫ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা ২০ মিনিটের দিকে বেনাপোল থেকে যশোরের দিকে যাওয়া একটি প্রাইভেট কার তল্লাশিকালে সেখানে থাকা চারজন দৌড়ে পালানোর সময় সোহাগ মিয়াকে আটক করা হয়। ওই রাতে চোরাচালানের সোনা উদ্ধারের জন্য সোহাগ মিয়াকে সঙ্গে নিয়ে অভিযান চালানো হয়। তবে সোনা উদ্ধার করা যায়নি। তবে তাঁর প্রাইভেট কার থেকে ১০০ বোতল ফেনসিডিল, ৪ হাজার ৯৬৫টি ইয়াবাসদৃশ গোলাপি ট্যাবলেট, ৪ কেজি গাঁজা, কাঁটাতার কাটার কাঁচি, সোনা প্যাকিং করার ম্যাটেরিয়াল জব্দ করা হয়।

১৬ সেপ্টেম্বর বেনাপোল বিওপির সুবেদার মো. আহসান উল্লাহ বাদী হয়ে বেনাপোল বন্দর থানায় এ বিষয়ে মামলা করেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন