স্পেনের জীব প্রযুক্তি কোম্পানি বায়োসিস্টেম থেকে ‘অটো অ্যানালাইজার’ নামক যন্ত্রটি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কিনেছিল ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে। একই মাসে জাপান থেকেও কেনা হয় ‘সেল কাউন্টার’ নামের আরেকটি রোগ নির্ণয় যন্ত্র। ২৭ লাখ টাকা দিয়ে কেনা এই দুই যন্ত্র কেনার পর এত দিন ব্যবহার হয়নি। তবে অবশেষে আজ রোববার এটি চালু হয়েছে।
আজ বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে এই যন্ত্র দুটির উদ্বোধন করেন সহ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান। এই যন্ত্রগুলো দিয়ে সব ধরনের রক্ত পরীক্ষা, সিরাম পরীক্ষা, ডোপ টেস্ট, গর্ভধারণ পরীক্ষা (ডিভাইস পদ্ধতি), আরএইচ ফ্যাক্টর নির্ণয়সহ ২১ ধরনের রোগ নির্ণয় করা যাবে। শিক্ষার্থীরা কম খরচে এসব পরীক্ষা করাতে পারবেন। আগে আশপাশের বেসরকারি ক্লিনিকে রোগ নির্ণয় পরীক্ষার জন্য কয়েক হাজার টাকা গুনতে হতো।
বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্র সূত্র জানায়, একটি পরীক্ষা করতে শিক্ষার্থীদের ৩০ থেকে ৩৫০ টাকা পর্যন্ত খরচ হবে। আর শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের খরচ হবে ১০০ থেকে ৫০০ টাকা। এর বাইরে আশপাশের বাসিন্দারাও এতে পরীক্ষা করাতে পারবেন। তাঁদের ১২০ থেকে ৭০০ টাকা ফি দিতে হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সহ-উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান বলেন, ‘পৃথিবীর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আলাদা মেডিকেল অনুষদ রয়েছে। সরকার থেকে অনুমোদন পেলে আমাদেরও মেডিকেল অনুষদ বানানোর পরিকল্পনা রয়েছে।’
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. কামাল উদ্দিন, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক মোহাম্মদ আল আমিন, সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক এনায়েত উল্যাহ পাটওয়ারী, আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক মু. জাফর উল্লাহ তালুকদার, চিকিৎসাকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবু তৈয়ব, জ্যেষ্ঠ চিকিৎসা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।
জানতে চাইলে চিকিৎসা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবু তৈয়ব প্রথম আলোকে, লোকবলের অভাবে এত দিন যন্ত্রগুলো চালু করা যায়নি। গত প্রশাসনের সময় বারবার আবেদন করেও লোকবল পাওয়া যায়নি।’