উপজেলা কৃষি দপ্তরের তথ্যমতে, চলতি রবি মৌসুমে প্রায় ১ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ধরনের সবজি আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ হিসাবের বাইরে ১ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিতে শুধু আলুর আবাদ হচ্ছে। উপজেলায় ১৭ হাজার ৬৩০ হেক্টর ফসলি জমির মধ্যে ৫৪০ হেক্টর ৪ ফসলি জমি। উপজেলার সবজির চাহিদা মিটিয়ে বাকি সবজি সারা দেশে চলে যাচ্ছে। 

পৌরসভার মাহমুদপুর, দয়ারপাড়, সারাঙ্গপুর ও প্রস্তুমপুর, হাবিবপুর ও ভবানীপুর; মুকুন্দপুর ইউনিয়নের মুকুন্দপুর, কেশবপুর, বালুপাড়া, ফকিরপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, এসব মাঠে এখন বেগুন, বাঁধাকপি, ফুলকপি, আলু, পটোল, মুলা, শিম ও লাউগাছ দেখা যায়। সবজি আবাদের পাশাপাশি পেঁয়াজ, রসুন ও নানা রকমের শাক আবাদ করছেন তাঁরা। 

কৃষকেরা বলেন, প্রতিদিন সকালে কৃষকেরা এসব খেত থেকে সবজি তোলেন। সকাল আটটার মধ্যে পাইকারি আড়তে সবজি নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে দেশের প্রায় ১৮টি জায়গায় সবজি চলে যায়। গত বছরের তুলনায় সবজির উৎপাদন বেশি হওয়ায় দুটি পাইকারি বাজারে জায়গার সংকুলান হচ্ছে না। তাই শহরের শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম মাঠে প্রতিদিন সকালে অস্থায়ীভাবে সবজির পাইকারি বাজার বসছে।

তবে কৃষকদের অভিযোগ, জমি থেকে সবজি তোলার সময় যতই ভালো করে বাছাই করে সবজি আড়তে নিয়ে যান না কেন, পোকার বা নষ্টের অজুহাতে আড়তদারেরা সবজি ওজন করার সময় প্রতিমণে দুই-তিন কেজি সবজি বেশি (ধলতা) নেন। এ ছাড়া খাজনা আদায়ের তালিকায় ভ্যানপ্রতি ৯ টাকা দেওয়ার নিয়ম থাকলেও ইজারাদার বিক্রেতার কাছ থেকে মণে ১০ টাকা আদায় করেন। 

মুকুন্দপুর ইউনিয়নের কেশবপুর গ্রামের কৃষক আবদুল বারী বলেন, এবার জমিতে আলুর আবাদ করেছেন। আলুর জমিতে সাথি ফসল হিসেবে মিষ্টিকুমড়া, চালকুমড়া ও করলা আবাদ করেছেন তিনি। সবকিছু ঠিক থাকলে ডিসেম্বরের ২০ তারিখের দিকে জমি থেকে আলু তুলবেন তিনি। পাঁচ বিঘা জমিতে আলুর আবাদে এ পর্যন্ত প্রায় ৮০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আলু তোলা পর্যন্ত আরও ১০ হাজার টাকা খরচ হবে। তিনি আশা করছেন, সেখানে ১৪০ থেকে ১৫০ মণ আলু উৎপাদিত হবে। সে হিসাবে প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার টাকার আলু বিক্রি হবে।

কৃষকেরা আরও বলেন, অধিকাংশ কৃষক বাজারে কীটনাশকের দোকানে গিয়ে দোকানি ও কীটনাশক কোম্পানির প্রতিনিধিদের কাছ থেকে কৃষি সম্পর্কে পরামর্শ নেন। উপজেলা কৃষি দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তারা প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকদের কাছে যান না। 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিক্সন চন্দ্র পাল বলেন, লোকবল সংকটের মধ্যেও তাঁরা সর্বাত্মক চেষ্টা করছেন কৃষকদের সহায়তা করার। সহজ শর্তে প্রায় ৩৩ কোটি ৬২ লাখ টাকা ঋণও দেওয়া হয়েছে।