ওসি গোলাম মস্তুফা বলেন, রিমা আত্মহত্যা করেছেন বলে হত্যা মামলাটি পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় হয়ে যাবে—এমন নয়। তিনি কেন এত অল্প বয়সে আত্মহত্যা করলেন, আত্মহত্যার পেছনে কারও প্ররোচনা ছিল কি না—এসব বিষয় তদন্ত করা হবে। বিশেষ করে, হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হানিফুর রহমান ও নার্স ইনচার্জ লিজা বেগমের এ ঘটনায় জড়িত ছিলেন কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে।

তবে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে আত্মহত্যার বিষয়টি উঠে আসায় হতাশ রিমার পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের দাবি, এটা আত্মহত্যা নয়; বরং রিমাকে হত্যা করা হয়েছে। রিমার বাবা ও মামলার বাদী সেন্টু প্রামাণিক বলেন, ‘রিপোর্টে কী এল জানি না। আমি জানি, আমার মেয়েকে মেরে ফেলা হয়েছে। আর কাজটি হয়েছে এমডি হানিফুর রহমানের ইঙ্গিতে।’

রিমার লাশ উদ্ধারের ঘটনায় তাঁর বাবা হানিফুর রহমান ও লিজা বেগমকে আসামি করে মামলা করেন। হানিফুর এরই মধ্যে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে কিশোরগঞ্জ কারাগারে রয়েছেন। তবে লিজা পলাতক। এ ঘটনায় হানিফুরের বিচার চেয়ে স্থানীয় লোকজন বিক্ষোভ করেন এবং হাসপাতালে ভাঙচুর চালান। পরে মামলার রহস্য উদ্‌ঘাটনে পুলিশ হানিফুরকে তিন দিনের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করে।

পুলিশ জানায়, ৮ জুলাই কর্মস্থলে ফিরেই এমডির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন রিমা। কিন্তু এমডি সেটি গ্রহণ করেননি। ১০ জুলাই দিবাগত রাত ৩টার দিকে নার্স ইনচার্জ লিজা বেগমের মাধ্যমে মুঠোফোনে এমডির সঙ্গে কথা বলেন রিমা। তখন জানান, সকালে তিনি বাড়ি ফিরে যেতে চান। এর এক ঘণ্টা পর ২০৩ নম্বর কেবিনে বৈদ্যুতিক পাখার সঙ্গে রিমাকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন