চট্টগ্রামকে আন্তর্জাতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব: শেখ শাবাব আহমেদ
চট্টগ্রামের বৈশ্বিক গুরুত্ব উল্লেখ করে আবুল খায়ের গ্রুপের হেড অব করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড লিগ্যাল শেখ শাবাব আহমেদ বলেন, ‘আমরা শুধু বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে চট্টগ্রামকে ভাবতে পারি না। চট্টগ্রামের একটি গ্লোবাল ন্যারেটিভ আছে। এটি একটি রিজিয়নাল হাব হতে পারে। চীন, ভারত, মিয়ানমার, ভুটান, নেপাল—সবাইকে যুক্ত করে চট্টগ্রামকে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। আমরা বিকেন্দ্রীকরণ বা কেন্দ্রীকরণ নিয়ে বিরোধে না গিয়ে বাস্তব সমস্যাগুলো মোকাবিলা করতে পারি।’
প্রথম আলো আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে এসব কথা বলেন শেখ শাবাব আহমেদ। ‘চট্টগ্রাম কবে বাণিজ্যিক রাজধানী হবে’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক আজ রোববার নগরের র্যাডিসন ব্লু চট্টগ্রাম বে ভিউর মেঘলা হলে অনুষ্ঠিত হয়। এতে সহায়তা করেছে জিপিএইচ ইস্পাত লিমিটেড, আবুল খায়ের গ্রুপ ও টিকে গ্রুপ।
চট্টগ্রামের সঙ্গে যোগাযোগে রেলব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দিয়ে শেখ শাবাব আহমেদ বলেন, ‘আমাদের রেল যোগাযোগব্যবস্থা এখনো পর্যাপ্তভাবে ব্যবহার হয়নি। ৬ থেকে ১০ লেনের রাস্তা তৈরি তো সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। যাত্রী চলাচল ও কনটেইনার পরিবহনে ট্রেন ব্যবহার করলে সময় ও খরচ দুটোই কমানো সম্ভব।’
শেখ শাবাব আহমেদ বলেন, ‘প্রথম আলোতে একটি সংবাদ দেখছিলাম, যেখানে বলা হয়েছে, ঢাকা ইতিমধ্যে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর এবং তিন থেকে সাড়ে তিন কোটি মানুষ বসবাস করছে। এ ছাড়া এটি বসবাসযোগ্য তালিকায় ১৭১তম। কিন্তু এই পরিপ্রেক্ষিতে যদি আমরা চট্টগ্রামকে দেখি, তাহলে এখনো আমাদের এখানে সাজানোর, উন্নয়নের অনেক সুযোগ আছে। চট্টগ্রাম প্রাকৃতিকভাবে পরিবেশবান্ধব একটি শহর। এটি আমাদের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ও স্বীকার করছে—আমরা আমাদের কারখানাগুলোকে পরিবেশবান্ধব করার জন্য কাজ করেছি। সরকার যখন নগর-পরিকল্পনা করছে, তখন আমাদের সুযোগ রয়েছে চট্টগ্রামকে আরও সুসংগঠিত ও আধুনিকভাবে গড়ে তোলার।’
বিকেন্দ্রীকরণ প্রসঙ্গে শেখ শাবাব আহমেদ বলেন, ‘আমরা বলতে পারি, বিকেন্দ্রীকরণ দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য। কিন্তু স্বল্প মেয়াদে আমরা কী করতে পারি? আমাদের সমস্যাগুলোর সমাধান নিয়ে ভাবা দরকার। ঢাকাকেন্দ্রিক সেবা যে আমাদের জন্য সময়সাপেক্ষ, তার সমাধান হিসেবে একটি ওয়ান স্টপ সলিউশন সেন্টার চট্টগ্রামে তৈরি করা যেতে পারে। এটা বিভিন্ন বিভাগভিত্তিক হতে পারে। যেখানে ব্যবসায়ী, নাগরিক বা শিক্ষার্থী বারবার ঢাকামুখী না হয়ে সমস্যার সমাধান পাবেন।’
বর্তমান অবকাঠামোকে উন্নয়নের সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে উল্লেখ করে শেখ শাবাব আহমেদ বলেন, ‘আমাদের শহরের স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সক্ষমতা বাড়ানো দরকার; কারণ, বর্তমানে অনেক মেধাবী ছাত্র ঢাকামুখী হচ্ছে। নতুন প্রতিষ্ঠান তৈরি করতে ১০-১৫ বছর সময় লাগতে পারে, কিন্তু বিদ্যমানগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব।’