শেখ মজিবুর ও হাসনাত কাইয়ুম প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ায় কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে উত্তাপ
কিশোরগঞ্জ-৫ (নিকলী-বাজিতপুর) বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন বাবার প্রতিষ্ঠিত দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগদান করা সৈয়দ এহসানুল হুদা। দলীয় মনোনয়নবঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হন বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শেখ মজিবুর রহমান ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ুম। কিন্তু যাচাই-বাছাইয়ে তাঁদের মনোনয়ন বাতিল হয়ে যায়। আপিলে তাঁরা প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ায় ভোটের মাঠে উত্তাপ ছড়াচ্ছে।
বিএনপি মনোনীত সৈয়দ এহসানুল হুদার বাবা সৈয়দ সিরাজুল হুদা বাংলাদেশ জাতীয় দলের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলেন। দলটির চেয়ারম্যান থাকা অবস্থায় সম্প্রতি নিজের দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দেন এহসানুল হুদা। এতে ২০১৫ সাল থেকে বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি পদে থাকা শেখ মজিবুর রহমান মনোনয়নবঞ্চিত হন। তিনি অষ্টম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে বলে জানা গেছে, মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ে শেখ মজিবুর রহমান ও হাসনাত কাইয়ুমের মনোনয়ন বাতিল হওয়ার পর ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে একতরফা ফলাফলের ধারণা করা হচ্ছিল। কিন্তু আপিলে তাঁরা প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার পর এলাকায় তাঁদের সমর্থকদের সক্রিয়তা বেড়েছে। এমতাবস্থায় তিন প্রার্থীর মধ্যে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে আলোচনায় হচ্ছে। মজিবুর রহমানের দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক ভূমিকা ও হাসনাত কাইয়ুমের সংস্কারভিত্তিক রাজনীতির বার্তা মাঠের আলোচনায় প্রাধান্য পাচ্ছে। অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থী এহসানুল হুদাকে দলীয় প্রতীক ও কেন্দ্রীয় সমর্থন এগিয়ে দিচ্ছে।
শেখ মজিবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি দলের সভাপতি। কিন্তু আমার রাজনীতির মাঠে অন্য দল থেকে আসা কেউ যদি ধানের শীষের প্রার্থী থেকে যান, তাহলে তাঁকে ফাঁকা মাঠে গোল দিতে দেওয়া হবে না। আমার জন্য মানুষের চোখের পানি ঝরছে। এই ভালোবাসার মূল্যায়ন করতে স্বতন্ত্র হলেও ভোটের মাঠে থাকতে হবে এবং থাকব।’
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি প্রথম দফায় কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে কোনো প্রার্থী ঘোষণা করেনি। মনোনয়ন নিয়ে তখন মজিবুর রহমান ও এহসানুল হুদার সমর্থকেরা প্রতিদিন ‘শোডাউন’ দিতেন। দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। পরে মনোনয়ন পান মজিবুর রহমান। এ অবস্থায় এহসানুল হুদা নিজের দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দিলে এক দিন পর মজিবুর রহমানের মনোনয়ন বাতিল করে এহসানুল হুদাকে ধানের শীষের প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। এরপর স্বতন্ত্র নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেন মজিবুর রহমান। কিন্তু একটি মামলার তথ্য গোপন করার অভিযোগে তাঁর মনোনয়ন বাতিল করা হয়। অন্যদিকে স্বতন্ত্র নির্বাচন করা হাসনাত কাইয়ুমের মনোনয়নপত্রে স্বাক্ষরে সমস্যা থাকায় বাতিল করা হয়। পরে দুজন আপিলের মাধ্যমে প্রার্থিতা ফিরে পান।
মজিবুর রহমানের অনুসারীদের দাবি, দলের কোনো নেতা বিশেষ করে বাজিতপুর উপজেলা কমিটির কোনো নেতা এহসানুল হুদার সঙ্গে নেই। এখন সবাই মজিবুর রহমানের হয়ে মাঠে কাজ করছেন। আজ মজিবুর রহমানের বাসায় উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাদের সভা হয়েছে। সভায় ৮০ শতাংশ নেতা অংশ নেন এবং মজিবুর রহমানের পক্ষে কাজ করার অঙ্গীকার করেন।
এ বিষয়ে সৈয়দ এহসানুল হুদা বলেন, বাজিতপুর উপজেলার সভাপতি তিনি (মজিবুর রহমান)। সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান তাঁর লোক। উপজেলা কমিটির ২০০ ভাগই পকেট কমিটি। কিছু নেতা তাঁর সঙ্গে আছে। তবে নিকলীসহ বাকি সবাই তাঁর (এহসানুল হুদা) সঙ্গেই আছেন।
স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসনাত কাইয়ুম বলেন, ‘মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় আমাকে আদালতে দৌড়াতে হয়েছে। এতে কয়েক দিন কর্মীদের কাছ থেকে দূরে থাকতে হয়। এই ঘটনায় কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। আমি সংস্কারের পক্ষে কথা বলে আসছি। সংস্কার ঘিরে মানুষের প্রত্যাশা রয়েছে। মানুষের প্রত্যাশা বাস্তবায়নের জন্য আমি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকব।’