স্কুলছাত্র হৃদয়ের হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়ে কাঁদলেন মা ও সহপাঠীরা
শরীয়তপুর জেলা শহরের শিশুকানন কিন্ডারগার্টেনের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র হৃদয় খানের হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করা হয়েছে। মানববন্ধনে হৃদয়ের পরিবারের সদস্য, বিদ্যালয়ের শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়।
বুধবার বেলা ১১টায় পর্যন্ত জেলা শহরের পালং মধ্যবাজার সড়কে এ কর্মসূচির আয়োজন করে শিশুকানন কিন্ডারগার্টেন কর্তৃপক্ষ। পরে তারা পুলিশ সুপারের কাছে স্মারকলিপি দেয়।
এর আগে গত সোমবার বিকেলে হৃদয়কে সদর উপজেলার ডোমসার ইউনিয়নের খিলগাঁও গ্রামের বাড়ি থেকে অপহরণ করা হয়। এরপর সন্ধ্যায় তার মা নিপা আক্তারের মুঠোফোনে কল করে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ চান অপহরণকারীরা। এরপর তাঁকে হত্যা করে মাটিচাপা দিয়ে রাখা হয়। মঙ্গলবার ভোরে পুলিশ ওই স্কুলছাত্রের লাশ উদ্ধার করে।
স্বজনদের সঙ্গে ছেলে হত্যার বিচার চাইতে মানববন্ধনে অংশ নেন হৃদয়ের মা নিপা আক্তার। কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেন, ‘ছেলের স্কুলে দাঁড়িয়ে ছেলে হত্যার বিচার চাইব, তা কখনো ভাবিনি। আল্লাহ, কেন এমন দিন আমাকে দেখতে হলো? আমার ছেলের মতো আর কারও সন্তানের যেন এমন পরিণতি না হয়। যারা আমার বুকের মানিকের জীবন কেড়ে নিয়েছে, তাদের ফাঁসি চাই।’
মানববন্ধন চলাকালে জড়িত ব্যক্তিদের ফাঁসি চেয়ে স্লোগান দিয়ে কেঁদেছে সহপাঠীরা। সামিউল ইসলাম, সোহানা ও জোহরা বলে, হৃদয় তাদের ভালো বন্ধু ছিল। স্কুলে তারা একসঙ্গে খেলাধুলা ও পড়ালেখা করত। হৃদয়ের মৃত্যুতে তারা কষ্ট পেয়েছে, ভয় পেয়েছে। তারা এর শাস্তি চায়।
শিশুকানন কিন্ডারগার্টেনের প্রধান শিক্ষক বাদল কৃষ্ণ পাল বলেন, শরীয়তপুরের মতো শান্ত একটি শহরে এমন ঘটনা তাঁদের বিচলিত করেছে। তাঁরা দ্রুত জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি জানান।
থানা-পুলিশ জানিয়েছে, যে মুঠোফোন থেকে কল করে হৃদয়ের মায়ের কাছে মুক্তিপণ চাওয়া হয়েছিল, পুলিশ ওই মুঠোফোন নম্বরের সূত্র ধরে হৃদয়দের বাসার ভাড়াটে সিয়ামকে (২০) আটক করে। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আটক করা হয় শাকিল গাজী (১৮), শাওন চৌকিদারসহ (২০) আরও তিনজনকে। আরেকজনের বয়স ১৫ বছর। সিয়ামের বাড়ি পাবনায়। বাকিরা হৃদয়ের গ্রামের বাসিন্দা। মঙ্গলবার বিকেলে পুলিশ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাঁদের আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠিয়েছে।
পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আক্তার হোসেন বলেন, অপহরণের পরপরই শিশুটিকে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ওই শিক্ষার্থীকে অপহরণ ও হত্যার ঘটনায় আর কেউ জড়িত আছেন কি না, তা তদন্ত করা হচ্ছে।
শরীয়তপুরের কোর্ট পরিদর্শক মেজবা উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, হৃদয় হত্যা মামলার আসামি সিয়াম বুধবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। গ্রেপ্তার তিন আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পালং মডেল থানায় নেওয়া হয়েছে। গ্রেপ্তার একজন কিশোর হওয়ায় জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানো হবে।