অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ, শাশুড়ি গ্রেপ্তার

ঢাকার কেরানীগঞ্জে যৌতুক না পেয়ে নাবিলা খান নামের অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকাবাসী নিহত গৃহবধূর শাশুড়িকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন। পরে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গত রোববার বিকেলে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় মামলাটি করেন নিহত নাবিলার বাবা টুটুল হোসেন। এতে আসামি করা হয়েছে নাবিলার স্বামী জীবন শেখ (২৩) ও শাশুড়ি নুরজাহান বেগমকে (৪২)। বাদীর দাবি, যৌতুক না পেয়ে নাবিলার স্বামী ও শাশুড়ি তাঁকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে ঘটনা ধামাচাপা দিতে মরদেহ ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা বলে প্রচার করেছেন।

টুটুল হোসেন বলেন, তাঁর মেয়ে নাবিলার সঙ্গে গোপালগঞ্জ সদর থানার চামটা গ্রামের বাসিন্দা রিপন শেখের ছেলে জীবন শেখের প্রেমের সম্পর্ক হয়। দেড় বছর আগে তাঁরা পালিয়ে বিয়ে করেন। এর পর থেকে তাঁরা কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা ইউনিয়নের হাবিবনগর এলাকায় বসবাস করতেন। তাঁদের আট মাস বয়সী একটি ছেলে রয়েছে। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই জীবন শেখ ও তাঁর মা নুরজাহান বেগম যৌতুকের জন্য মেয়েকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন। প্রায় সময় মেয়ে বিষয়টি জানাতেন বাবাকে।

টুটুল বলেন, একপর্যায়ে যৌতুক হিসেবে জীবনকে ৫০ হাজার টাকা দেন। এরপরও শ্বশুরবাড়ির লোকজন যৌতুকের জন্য পুনরায় নাবিলাকে নির্যাতন করা শুরু করেন। গত শনিবার বিকেলে বাদী জানতে পারেন, তাঁর মেয়ে মারা গেছেন। টুটুল জানান, নাবিলার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তিনি পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। বাদীর দাবি, যৌতুকের টাকা দিতে না পারায় শনিবার সকালে জীবন ও তাঁর মা নুরজাহান নাবিলাকে বেদম মারধর করেন। মারধরের এক পর্যায়ে মেয়ের গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেছেন তাঁরা।

শনিবার বিকেলে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা ইউনিয়নের হাবিবনগর এলাকার নবাব মিয়ার ভাড়াটে বাড়ি থেকে নাবিলা খানের ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহজামান বলেন, ওই গৃহবধূর শাশুড়ি নুরজাহান বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে গতকাল সোমবার তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।