দেশে একটি পক্ষ চায় গোলামি আর আরেকটি পক্ষ চায় আজাদি: হাসনাত আবদুল্লাহ

‘আগ্রাসনবিরোধী পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। বুধবার বিকেলে কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার ফতেহাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠেছবি: প্রথম আলো

দেশ এখন দুই ভাগে বিভক্ত বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনের জামায়াত-এনসিপি জোটের প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেছেন, দেশে একটি পক্ষ চায় গোলামি আর আরেকটা পক্ষ চায় আজাদি।

বুধবার বিকেলে কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার ফতেহাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত ‘আগ্রাসনবিরোধী পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে তিনি এ কথা বলেন। কর্মসূচিতে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে উল্লেখ করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘একটি পক্ষ চায় গোলামি, আরেকটি পক্ষ চায় আজাদি। একটা পক্ষ চায় ভারতের তাঁবেদারি আর একটা পক্ষ চায় বাংলাদেশের স্বনির্ভরতা। একটা পক্ষ চায় স্বাধীনতা, আরেকটা পক্ষ চায় পরাধীনতা। আমরা চাই—কে বাংলাদেশকে পরিচালনা করবে, কে সরকার গঠন করবে, সেটা বাংলাদেশের জনগণই নির্ধারণ করবে।’

হাসনাত আবদুল্লাহ আরও বলেন, ‘বিগত সময়ে প্রশাসন ও পুলিশ ব্যালটে সিল দিয়ে অনেককে সরকার বানিয়েছে, এ সরকার কি টিকতে পারছে? পুলিশ ও প্রশাসন নগ্নভাবে হাসিনাকে ক্ষমতায় রাখার জন্য নির্বাচনব্যবস্থাকে কলুষিত করেছে। পুলিশ কিংবা প্রশাসনের কাজ না ব্যালটে সিল দিয়ে সরকার প্রতিষ্ঠা করা। প্রশাসনের কাজ হচ্ছে জনগণ যাতে নির্ভয়ে নিজের ভোটটা নিজে দিতে পারেন—সেই ব্যবস্থা করা। পুলিশ এবং প্রশাসনের প্রতি আহ্বান, আপনারা নিরপেক্ষ দায়িত্ব পালন করুন। তাহলে জনগণ আপনাদের মাথায় তুলে রাখবে, আর সেটা না হলে বেনজীর ও হারুনের মতো পরিণতি বরণ করতে হবে।’

এনসিপির এই নেতা বলেন, ‘একটি পক্ষ চাঁদাবাজদের পক্ষ অবলম্বন করেছে, ভারতীয় গুন্ডামির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, মাফিয়াদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ২০০৯ সালের পর গণতন্ত্রের জন্য যাঁরা রক্ত, শ্রম-ঘাম ও রাজপথে রক্ত দিয়েছেন—তাঁদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে কতিপয় রাজনৈতিক দল আবার ভারতীয় তাঁবেদারি শুরু করার পাঁয়তারা করছে।’

এর আগে বুধবার দুপুরে উপজেলার ফতেহাবাদ ইউনিয়নের জয়পুর চান মিয়া মার্কেটের সামনে শহীদ ওসমান হাদির স্মরণে আয়োজিত মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠানে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘ভারতের গুন্ডামির বিরুদ্ধে যাঁরা আপসহীন ছিলেন, ওসমান হাদি তাঁদের অন্যতম। কিন্তু দুঃখজনক বিষয়, হাদি ভাই শহীদ হওয়ার তিন সপ্তাহ পার হলেও আমরা এখনো তাঁর হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে পারিনি। এটি আমাদের জাতির জন্য লজ্জার। আমরা হাদি হত্যার বিচার চাই। ফ্যাসিবাদের আমলে আমরা দেখেছি, চোখের ইশারায়ও যদি বিএনপি-জামায়াত কোনো কর্মসূচি ঘোষণা করত, সেখানে সঙ্গে সঙ্গে গোয়েন্দা সংস্থা উপস্থিত হতো। অথচ ছয় মাস আগে ঘোষণা দিয়ে জুমার দিনে প্রকাশ্যে আমার ভাইকে গুলি করে হত্যা করা হলো, হত্যার পর খুনিরা সীমান্তের ওপারে চলে গেল, কিন্তু আমাদের দেশের গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কোনো কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারল না।’

সংসদ নির্বাচনে ঋণখেলাপিদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে আমরা নতুন কিছু প্রত্যাশা করেছিলাম। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, ঋণখেলাপিদের মনোনয়ন দেওয়া হচ্ছে। যাঁরা ব্যাংকের টাকা ফেরত দেন না, জনগণের আমানতের টাকা ফেরত দেন না, তাঁরা সংসদে গিয়ে জনগণকে কী বার্তা দিতে চান, সেটা আমাদের বোধগম্য নয়। যে ব্যক্তি নিজেই ঋণ করে চলেন, দায় শোধ করেন না, সে ব্যক্তি জনগণের সেবা করতে এলে কী ধরনের সেবা দেবেন, তা আমাদের কাছে পরিষ্কার হয়ে গেছে। এসব ঋণখেলাপি সংসদে গিয়ে যেন জনগণের টাকা ফেরত দিতে না হয়, সেই ব্যবস্থাই করবেন। তাই ব্যালটের মাধ্যমে ঋণখেলাপিদের “না” বলতে হবে জনগণকে। জনগণের সামনে এবার সেই সুযোগ এসেছে।’