আমরা লেজ ধরে টান দেব না, কান ধরে টান দেব: জামায়াতের আমির

বাগেরহাটে নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দিচ্ছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। মঙ্গলবার সন্ধ্যায়ছবি: প্রথম আলো

রাজনীতির জায়গা স্বচ্ছ হলে গোটা সমাজ স্বচ্ছ হয়ে যাবে মন্তব্য করে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘মাথা যদি ঠিক থাকে, গোটা শরীর ঠিক হয়ে যাবে। তখন আর কেউ দুঃসাহস দেখাবে না দুর্নীতি করার, অন্য কোনো অপরাধ করার। আমরা লেজ ধরে টান দেব না, আমরা কান ধরে টান দেব ইনশা আল্লাহ। যারাই অপরাধ করুক কোনো ছাড় নেই।’

আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাগেরহাট শহরতলীর হজরত খানজাহান (রহ.)-এর মাজার-সংলগ্ন মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শফিকুর রহমান এ কথা বলেন। পরে বাগেরহাটের চারটি আসনের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে তাঁদের হাতে দলীয় প্রতীক দাঁড়িপাল্লা তুলে দেন শফিকুর রহমান। যশোর, সাতক্ষীরা ও খুলনার পর বাগেরহাটের জনসভায় বক্তব্য দেন জামায়াত আমির।

জামায়াতের আমির বলেন, ‘একদিকে আপনি মায়েদের হাতে দিবেন ফ্যামিলি কার্ড আর প্রতিপক্ষ হলে সেই মায়ের গায়ে আপনি হাত দিবেন। ফ্যামিলি কার্ড আর গায়ে হাত দুইটা একসাথে চলবে না।’ তিনি বলেন, ‘এটা জরুরি নয় জামায়াতে ইসলামীকেই দেশ শাসন করতে হবে। তবে এটা জরুরি এই দেশের সুশাসন থাকতে হবে। এই দেশকে যারা ভালোবাসে, তাদেরই শাসনের দায়িত্ব দিতে হবে। পৈতৃক সূত্রে, জমিদারের সূত্রে রাজনীতি এ দেশের মানুষ আর দেখতে চায় না। জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে সমাজের সকলের জন্য ন্যায়বিচার কায়েম করব ইনশা আল্লাহ।’

ব্যাংক ডাকাত, শেয়ার মার্কেট লুটেরাদের কী হবে—এমন প্রশ্ন তুলে শফিকুর রহমান বলেন, ‘তাঁরা অনেকে পালিয়ে গিয়ে বিদেশে আলিশান বাড়িতে থাকেন। আল্লাহ যদি আমাদের তৌফিক দেন, আমরা ওদের পেটের ভেতরে হাত ঢুকাইয়া জনগণের টাকা বের করে নিয়ে আসব। সেই টাকা রাষ্ট্রীয় তহবিলে যোগ হবে।’

আরও পড়ুন

জামায়াতের আমির বলেন, ‘আজকে দেখলাম একজন উন্মাদ হয়ে বলতেছেন, জামায়াতে ইসলামীর নারী কর্মীরা কোথাও আসলে ওদের পোশাক খুলে ফেলবেন। সেটা সহকর্মীদের হুকুম দিচ্ছে। আরেকজন মেয়ে হিসেবে হুকুম দিচ্ছে, ওদের হিজাব ও নেকাব খুলে ফেলবেন। এর নাম গণতন্ত্র? নির্বাচনের আগেই যদি আপনি এটা করেন, নির্বাচনের পরে কী করবেন?’

‘সভ্য প্রত্যেকটি দেশকে আমরা বন্ধু হিসেবে পেতে চাই’ উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘অতীতে বন্ধুত্ব নয়, কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্রভুত্ব কায়েম হয়েছে। আধিপত্যবাদ আমাদের ঘাড়ে চেপে বসেছিল। এই জাতি আর কোনো আধিপত্যবাদ বরদাশত করবে না।’

আরও পড়ুন