ট্রলারের মালিক আবদুস সালাম প্রথম আলোকে বলেন, ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ করে গত ২৮ অক্টোবর গভীর রাতে তাঁর ট্রলারটি বঙ্গোপসাগরে ইলিশ ধরতে যায়। ট্রলারের জেলে আছেন ১৮ জন। সোমবার রাতে সাগরের ১২ কিলোমিটার গভীরে জাল ফেললে এসব ইলিশ ধরা পড়ে। ট্রলারের মাঝি নুর মোহাম্মদ (৫০) বলেন, ইলিশের ওজন ৫০০ গ্রাম হলে দাম পাওয়া যেত ১৫ লাখ টাকার বেশি।

শহরের নুনিয়াছটার আমির হোসেনের মালিকানাধীন এফবি আমির নামের ট্রলারে ধরা পড়েছে আড়াই হাজার ইলিশ। একই ঘাটে এসব ইলিশ ২ লাখ ১৩ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। ট্রলারের মাঝি আবুল কালাম (৪৫) বলেন, উপকূলের কাছাকাছিতেই ছোট ইলিশ ধরা পড়ছে। এসব ইলিশ লম্বায় ১০ থেকে ১২ ইঞ্চি। আকারে ছোট হওয়ায় দাম পাওয়া যাচ্ছে না।

দুপুর ১২টা পর্যন্ত ১২টি ট্রলারে ৫০ হাজারের বেশি ইলিশ আনা হয়েছে ঘাটে। ৮০ শতাংশ ইলিশের ওজন ২৫০-৩০০ গ্রাম। অবশিষ্ট ২০ শতাংশ ইলিশের ওজন ৪০০-৫০০ গ্রাম।

ইলিশ কিনে বরফ দিয়ে কার্টন ভরছেন ব্যবসায়ীরা। প্রতিটি কার্টনে রাখা হচ্ছে ২০ কেজি ইলিশ। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ইলিশ সরবরাহ করছেন ফিশারিঘাট মৎস্য ঐক্য ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির ৪০-৫০ সদস্য।

সমিতির সাবেক সভাপতি ও ইলিশ রপ্তানিকারক মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, নিষেধাজ্ঞা শেষে জেলার কয়েক হাজার ট্রলার ইলিশ ধরতে সাগরে নেমেছিল। কিছু ট্রলার ইলিশ নিয়ে ঘাটে ফিরেছে। কিন্তু ওজন কম হওয়ায় ইলিশের দাম পাচ্ছেন না। এতে হতাশ তাঁরা।

সমিতির সভাপতি মো. ওসমান গণী প্রথম আলোকে বলেন, মঙ্গলবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত প্রায় ১৫ মেট্রিক টন ইলিশ বোঝাই করে তিনটি ট্রাক ঢাকার পথে রওনা দিয়েছে। ইলিশগুলো ঢাকার কারওয়ান বাজার, যাত্রাবাড়ী, সাভার, উত্তরা, গাজীপুরে বিক্রি হবে। কিছু ইলিশ যশোর, বগুড়া ও সিলেটে যাচ্ছে।

কম ওজনের ইলিশ ধরা পড়ার কারণ জানতে চাইলে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. বদরুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, এসব ইলিশের বয়স চার থেকে পাঁচ মাস। অর্থাৎ চার মাস আগেই উপকূলে এসব ইলিশের জন্ম হয়। ঝাঁক বেঁধে গভীর সাগরের দিকে চলে যাওয়ার সময় ইলিশগুলো জালে আটকা পড়ছে।

কক্সবাজার ফিশিং বোট মালিক সমিতির সভাপতি মুজিবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ইলিশ ধরতে সাগরে অবস্থান করছে জেলার টেকনাফ, মহেশখালী, কুতুবদিয়া, কক্সবাজার সদর, চকরিয়া ও পেকুয়ার প্রায় ছয় হাজার ট্রলার। এসব ট্রলারে জেলের সংখ্যা ১ লাখ ৩০ হাজারের বেশি।