স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ধীরগতিতে নালা নির্মাণের কাজ চলায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকার বাসিন্দারা। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। দীর্ঘদিন ধরে সড়কের একপাশে নালার মাটি খুঁড়ে ফেলে রাখায় সড়কের আশপাশে ব্যবসা-বাণিজ্যেও এক ধরনের স্থবিরতা চলছে। রাতের অন্ধকারে অনেকে খোঁড়াখুঁড়ির অংশে পড়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছেন।

সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি কালীবাড়ি সড়কে নালা নির্মাণের জন্য ২ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে কাজ শুরু করা হয়। চলতি বছরের জুনে কাজটি শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে সিলেটে দুই দফা বন্যা ও ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে কাজ শেষ না হওয়ায় নির্মাণের সময়সীমা আগামী বছরের জুন মাস পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

বন্যা ও ভারী বৃষ্টিপাতে নালার নির্মাণকাজ শেষ করা যায়নি। এখন দ্রুত কাজ শেষ করতে ঠিকাদারকে তাগাদা দেওয়া হবে।
নূর আজিজুর রহমান, প্রধান প্রকৌশলী, সিলেট সিটি করপোরেশন

কালীবাড়ি এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, নালার কিছু অংশে নির্মাণকাজ শেষ হলেও অনেক জায়গায় এখনো ওপরের ঢাকনা বসানো হয়নি। কিছু অংশে মাটি খুঁড়ে ফেলে রাখা হয়েছে। দিনের পর দিন এগুলো পড়ে থাকলেও সরানোর তেমন কোনো উদ্যোগ নেই।

স্থানীয় রিকশাচালক মাহতাব মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, সড়ক সংকুচিত থাকায় এ সড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচলে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগে পড়তে হয়। হাওলাদারপাড়া এলাকার বাসিন্দা সুবল সরকার বলেন, মাসের পর মাস মাটি খুঁড়ে সড়কে ফেলে রাখা হয়েছে। এক দিন কাজ হলে ১০ দিন বন্ধ থাকে। ধীরগতিতে কাজ চলায় স্থানীয় ব্যক্তিদের দুর্ভোগের শেষ নেই। এতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে সড়কের পাশের দোকানগুলোয়। এ ছাড়া সড়ক সংকুচিত থাকায় সারাক্ষণ যানজট লেগেই থাকে।

নতুনবাজার এলাকার ইসমাইল হক প্রথম আলোকে বলেন, কালীবাড়ি সড়ক দিয়েই তাঁদের নিয়মিত চলাচল করতে হয়। কিন্তু সড়কের পাশে দীর্ঘদিন ধরে মাটি স্তূপাকারে ফেলে রাখায় ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। খোঁড়াখুঁড়ির মাটি থেকে রোদের সময় ধুলা ওড়ে এবং বৃষ্টির সময় মাটি গড়িয়ে সড়কজুড়ে পড়ে থাকে। এতে ওই সড়কে চলাচল করা কষ্টকর হয়ে পড়েছে।

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান জনসাধারণের দুর্ভোগের কথা স্বীকার করে প্রথম আলোকে বলেন, বন্যা ও ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে নালার নির্মাণকাজ শেষ করা যায়নি। এখন দ্রুত কাজ শেষ করতে ঠিকাদারকে তাগাদা দেওয়া হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন