মাদারীপুরের ‘বোমারু’ ফয়সাল গ্রেপ্তার, হত্যা–ধর্ষণসহ আছে ১৭ মামলা

ঢাকার কাফরুল এলাকা থেকে ফয়সালকে গ্রেপ্তার করে কালকিনি থানার পুলিশ। গতকাল বুধবারছবি: পুলিশের সৌজন্যে

মাদারীপুরের কালকিনিতে চিহ্নিত সন্ত্রাসী ফয়সাল তালুকদার ওরফে বোমারু ফয়সালকে (৩৯) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা, ধর্ষণ, চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত অভিযোগে মামলা আছে।

গতকাল বুধবার রাতে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অনুসন্ধান) জাহাঙ্গীর আলম।

এর আগে গতকাল ঢাকার কাফরুল এলাকা থেকে ফয়সালকে গ্রেপ্তার করে কালকিনি থানার পুলিশ। বোমারু ফয়সালকে নিয়ে ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর প্রথম আলোর অনলাইনে ‘কালকিনিতে “বোমারু” ফয়সালের ত্রাসের রাজত্ব, এলাকাছাড়া মানুষ, ভয় পায় পুলিশও’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়।

গ্রেপ্তার ফয়সাল কালকিনি উপজেলার পূর্ব এনায়েতনগর ইউনিয়নের কালাই সরদারেরচর এলাকার বজলু তালুকদারের ছেলে। স্থানীয় লোকজন তাঁকে ‘বোমারু ফয়সাল’ নামেই চেনেন। স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য, কালকিনিতে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, হত্যা, বিস্ফোরণ, ধর্ষণের ঘটনাসহ যত ধরনের অপরাধ ঘটে, তার একটি বড় অংশের সঙ্গে যুক্ত ‘বোমারু ফয়সাল বাহিনী’।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফয়সাল তালুকদার দীর্ঘদিন ধরে কালকিনি উপজেলার অন্তত পাঁচটি ইউনিয়নে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ আছে। এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে হত্যা, চাঁদাবাজি, চুরি, ছিনতাই, ডাকাতিসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ আছে তাঁর বিরুদ্ধে। সম্প্রতি কালকিনিতে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। ঘটনার পর ভুক্তভোগী পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় এলাকা ছেড়ে চলে যায়।

ফয়সাল তালুকদারের গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়লে কালকিনির বিভিন্ন এলাকার লোকজন স্বস্তি প্রকাশ করেন। তাঁরা তাঁর দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন

পুলিশ বলছে, ফয়সালের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর তদন্ত অব্যাহত আছে। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি তাঁর সহযোগীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়াও চলমান।

মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম প্রথম আলোকে বলেন, ফয়সাল চিহ্নিত সন্ত্রাসী। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা, ধর্ষণসহ ১৭টি মামলা আছে। তিনি পরোয়ানাভুক্ত আসামি। পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন। তাঁকে ধরতে পুলিশের একাধিক দল কাজ করেছে। অবশেষে তাঁকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। আজ বৃহস্পতিবার আদালতে তাঁকে হাজির করা হবে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, ২০০৬ সাল থেকে অপরাধজগতে জড়ান ফয়সাল তালুকদার। তাঁর বিরুদ্ধে ২০০৬ সালে কালকিনি থানায় প্রথমে একটি চুরির মামলা হয়। এরপর তাঁর বিরুদ্ধে ডাকাতি, ছিনতাই, লুটপাট, হামলা, বিস্ফোরণ, হত্যা, ধর্ষণ, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে কালকিনি থানায় ১৫টি মামলা হয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তাঁর বিরুদ্ধে সাতটি মামলা হয়। বেশির ভাগ মামলাই বিস্ফোরণ, হামলা ও লুটপাটের ঘটনায়। সর্বশেষ কালকিনিতে আলোচিত বাবা-ছেলেসহ তিন খুনের মামলায় গ্রেপ্তার হন ফয়সাল। প্রায় সাত মাস কারাগারে ছিলেন তিনি। জামিনে বের হয়ে আবারও অপরাধে জড়ান তিনি। গত বছর ২২ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় বিধবা এক নারীর বসতঘরে ঢুকে ফয়সাল তাঁকে মারধর করে রামদা দিয়ে আঘাত করেন।