জেলা পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক নুরুল হক বলেন, এ ঘটনার প্রতিবাদে বাসচালক ও শ্রমিকেরা কর্মবিরতি ঘোষণা করেছেন। এ জন্য বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে সুনামগঞ্জ থেকে কোনো বাস ছাড়ছে না। জব্দ বাসগুলো ফেরত দেওয়া হলেই কর্মবিরতি প্রত্যাহার করা হবে।

রাত সাড়ে নয়টায় সুনামগঞ্জ শহরের পুরাতন বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা গেছে, বাস কাউন্টারগুলো বন্ধ। দু–একটি বাস ছাড়া সব বাস সেখান থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। যাত্রীরা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাওয়ার জন্য এসে বাস বন্ধ দেখে বেকায়দায় পড়েছেন। অনেকেই টিকিট নিয়ে রেখেছিলন। কিন্তু কাউন্টারে আসার পর টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। কেউ কেউ চেষ্টা করছেন সিলেটে যাওয়ার। কিন্তু তা–ও পারছেন না।

শহরের কালীবাড়ি এলাকার বাসিন্দা রাজু আহমদ বলেন, জরুরি কাজে ঢাকায় যাবেন, দুপুরে টিকিট নিয়ে রেখেছেন। এখন এসে শোনেন বাস বন্ধ। সমস্যা হলে তো আলোচনা করে সমাধান করা যায়। এভাবে হুট করে বাস বন্ধ করে দেওয়া উচিত নয়।
জেলার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ধনপুর এলাকা থেকে ছয় শিক্ষার্থী এসেছেন ঢাকা যাবেন বলে। কাল (শুক্রবার) রেলওয়ের একটি নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেবেন তাঁরা। কিন্তু বাসস্ট্যান্ডে এসে পড়েছে বিপাকে। সাইফুল ইসলাম নামের একজন বলেন, ‘কোনো বাসই চলছে না। ভাবছিলাম সিলেট যেতে সেখান থেকে যাব। সেটিও সম্ভব হচ্ছে না।’

সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ এহসান শাহ্ রাত পৌনে ১০টায় প্রথম আলোকে বলেন, সড়কের দুই পাশে বাস রাখায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি, যানজট হচ্ছে। জেলার আইনশৃঙ্খলা কমিটির প্রতিটি সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। অনেকেই এ নিয়ে অভিযোগ করেছেন। এ অবস্থায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের জন্য তিনটি বাস পুলিশ লাইনসে এনে রাখা হয়েছে। এ কারণে কর্মবিরতি ডেকে জনগণকে ভোগান্তিতে ফেলা যুক্তিযুক্ত হবে না। তিনি বলেন, ‘জনগণের ভোগান্তি যাতে না হয়, এ জন্য বিষয়টি সমাধানের জন্য আমরা চেষ্টা করছি।’