আগামীতে দেশটা কীভাবে চলবে, তার জন্য গণভোট: আলী রীয়াজ
সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ ‘হ্যাঁ’ বললে রাজনৈতিক দলগুলোর সংস্কার থেকে সরে যাওয়ার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ। দেশের মানুষকে গণভোটে অংশ নেওয়া এবং অন্যদের উৎসাহিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি বলেন, গণভোট কোনো ব্যক্তির জন্য ভোট নয়। আগামীতে দেশটা কেমন, ও কীভাবে চলবে, তার জন্য ভোট।
আজ বুধবার বিকেলে রংপুরের শহীদ আবু সাঈদ স্টেডিয়ামে গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণের উদ্দেশ্যে বিভাগীয় পর্যায়ের ইমাম সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আলী রীয়াজ এ সব কথা বলেন। সভায় রংপুর বিভাগের আট জেলার বিভিন্ন মসজিদের ইমাম উপস্থিত ছিলেন।
জুলাই জাতীয় সনদে যে অঙ্গীকার রাজনৈতিক দলগুলো করেছেন, একটি সাম্যভিত্তিক, ইনসাফভিত্তিক সমাজ, সেটা প্রতিষ্ঠা করতে গণভোট করা হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন আলী রীয়াজ। তিনি বলেন, ‘অনেকে প্রশ্ন করেন, গণভোট বিষয়টি কী-গত ৩৫ বছরে কোনো গণভোট হয়নি। গণভোট আসলে সহজ বিষয়। সেটা হচ্ছে, এটা একটা হ্যাঁ, না ভোট। আমরা সবাই বিভিন্ন সময়ে ভোট দিই। সে রকম একটি ভোট জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচনের মধ্যেও হবে। গণভোটও ওই রকম একটা ভোট। কিন্তু একটু পার্থক্য আছে। পার্থক্য হচ্ছে এই, যখন আমরা সমিতির নির্বাচনে ভোট দিই, জাতীয় সংসদের ভোট দেই, তখন আমরা বিবেচনা করি, একজন ব্যক্তিকে। উনি কি ভালো, উনি কি সৎ, কাজটা করতে পারবেন? সেই সব বিবেচনায় আমরা একজন মানুষকে ভোট দিই একটি নির্ধারিত সময়ের জন্য।’
গণভোট কোনো ব্যক্তির জন্য ভোট নয় বলে উল্লেখ করে আলী রীয়াজ বলেন, ‘গণভোটে আমরা কোনো ব্যক্তিকে ভোট দিচ্ছি না। গণভোটে বলা হচ্ছে, আগামী ৫ থেকে ২০ বছর বা তারও বেশি সময় ধরে দেশটা কেমন চলবে। আপনি যখন জাতীয় সংসদ তৈরি করবেন, সেই সংসদ সদস্যরা ৫ বছর দেশ চালাবেন। কিন্তু কীভাবে চালাবেন। তারই দিকনির্দেশনা আপনারা দিয়ে দেবেন।’
প্রধান উপদেষ্টার এই বিশেষ সহকারী বলেন, ‘অধ্যাপক ইউনূস বলছেন না, এইটায় আস্থা রাখুন, তাহলে আমি আগামী ৫ বছর ক্ষমতায় থেকে বাস্তবায়ন করে দেব। জুলাই জাতীয় সনদ অধ্যাপক ইউনূস তৈরি করেন নাই, তাঁর সরকার তৈরি করেনি। সরকার উদ্যোগ নিয়েছে, সব রাজনৈতিক দল, আলাপ-আলোচনা করে যেখানে একমত হয়েছে, কিছু ভিন্নমত আছে। তা সত্ত্বেও তাঁরা বলেছেন, একটা বিষয়ে সবাই একমত হয়েছেন, গণভোট করতে হবে।’
আলী রীয়াজ বলেন, ‘বাংলাদেশের বিদ্যমান ব্যবস্থায় যেকোনো দণ্ডিত অপরাধীকে রাষ্ট্রপতি চাইলে ক্ষমা করে দিতে পারেন। জুলাই জাতীয় সনদে রাজনৈতিক দলগুলো একমত হয়েছেন, ভবিষ্যতে রাষ্ট্রপতি একা কোনো দণ্ডিত ব্যক্তিকে ক্ষমা করতে পারবেন না, ভুক্তভোগীর পরিবারের সম্মতি লাগবে।’
বর্তমান সংবিধানে নির্বাচন কমিশনের শিরদাঁড়া নেই বলে উল্লেখ করেন আলী রীয়াজ। তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের নিয়োগ রাষ্ট্রপতি দেন। তো রাষ্ট্রপতি কার কথায় দেন? প্রধানমন্ত্রীর কথায় দেন। প্রধানমন্ত্রী কাকে দেবেন নির্বাচন কমিশনে, যে তাঁকে বিজয়ী করার নিশ্চয়তা দেবে। রাজনৈতিক দলগুলো একমত হয়েছে, এটা বদলাতে হবে।’
রংপুর বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কামাল উদ্দিন, পুলিশের রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মজিদ আলী প্রমুখ। স্বাগত বক্তব্য দেন রংপুরের জেলা প্রশাসন মোহাম্মদ এনামুল আহসান।
পরে একই স্থানে গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণের লক্ষ্যে আট জেলার সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করা হয়।