বাবার লাশ মর্গে, ছেলে হাসপাতালে, মামা থানায় লাশের অপেক্ষায়

কালিহাতী উপজেলায় রডবোঝাই ট্রাক উল্টে ১৫ জন নিহত হয়েছেন। আজ সোমবার সকালেছবি: সংগৃহীত

তরিকুল ইসলাম চট্টগ্রাম থেকে রডবোঝাই ট্রাকে উঠেছিলেন গতকাল রোববার দুপুরে। সঙ্গে ছিলেন শ্যালক নজরুল ইসলাম ও শ্যালকের ছেলে তুহিন। ঈদ উপলক্ষে কম ভাড়ায় বাড়ি যাওয়ার জন্য তাঁরা ট্রাকের আরোহী হয়েছিলেন। কিন্তু তাঁদের বাড়ি ফেরা হয়নি। আজ সোমবার ভোরে যমুনা সেতুর পূর্ব প্রান্তের সংযোগ সড়কের সরাতৈলে ট্রাকটি উল্টে যায়।

তরিকুল ইসলাম অক্ষত অবস্থায় বেঁচে যান। ঘটনাস্থলেই নিহত হন নজরুল ইসলাম। আহত হন তুহিন।

আজ সকাল ১০টার দিকে যমুনা সেতু পূর্ব থানায় কথা হয় তরিকুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘বাড়ির লোকজন আশায় বইসা আছে, আমরা দুপুরের মধ্যেই পৌঁছাইয়া যামু। কিন্তু নজরুল রইছে মর্গে, তুহিন হাসপাতালে আর আমি থানায় আছি। নজরুলের লাশ কহন বুইঝা পামু জানি না। লাশ পাওয়ার পর বাড়ি নিয়া যামু।’

তরিকুল ও তাঁর সহযাত্রীরা সবাই চট্টগ্রামে ‘হরেক মালের’ (হাঁড়িপাতিল ও তৈজসপত্র) ব্যবসা করেন। চট্টগ্রাম থেকে জনপ্রতি পাঁচ শ টাকা ভাড়ায় রাজশাহী পর্যন্ত যাওয়ার জন্য ট্রাকে উঠেছিলেন। তাঁদের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায়। চট্টগ্রামের অলংকার মোড় থেকে গতকাল বেলা একটায় তাঁরা চারজন ট্রাকে ওঠেন। ট্রাকটি সন্ধ্যায় ফেনী পৌঁছালে সেখান থেকে আরও ১৮ জন আরোহী নেয়। রাত একটার দিকে তাঁরা ঢাকা শহর পার হন।

টাঙ্গাইল ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন যাত্রী খোরশেদ আলম (২৬) বলেন, ঢাকা শহর পার হওয়ার পর কোথাও যানজটে পড়তে হয়নি। সবাই ট্রাকে বহন করা রডের ওপর ঘুমিয়ে পড়েন। হঠাৎ প্রচন্ড ঝাঁকুনি দিয়ে ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে উল্টে যায়। কিছুক্ষণ পর খোরশেদ আলম দেখেন, তিনি ট্রাকের কাছেই পড়ে আছেন। এ সময় অনেকে রডের নিচে চাপা পড়ে কাতরাচ্ছিলেন। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল এসে তাঁদের উদ্ধার করে।

যমুনা সেতুর পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার ফুয়াদ রুহানী বলেন, ট্রাকটির যাত্রীরা ছিলেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও শ্রমজীবী। কম ভাড়ায় গন্তব্যে যাওয়ার জন্য তাঁরা রডবাহী ট্রাকে উঠেছিলেন।

যমুনা সেতুর পূর্ব থানার পুলিশ জানায়, নিহত ১৫ জনের মধ্যে ছয়জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তাঁরা হলেন নওগাঁর মান্দা উপজেলার রাজেন্দ্রবাড়ী গ্রামের মো. সাগর মিয়া (২০), রবিউল ইসলাম (২৫), রাজশাহীর তানোর উপজেলার বাতানপুর গ্রামের ইসমাইল হোসেন (১৯), চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার দশপাড়া পাড়া গ্রামের নজরুল ইসলাম (৬০) ও সদর উপজেলার মামুন (৪৫), নওগাঁর শারিকুল (২৫)।

টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গোপালপুর সার্কেল) ফৌজিয়া হাবিব বলেন, রডবাহী ট্রাকটির রডের ওপর ত্রিপল ছিল। তার ওপর যাত্রী বহন করা হচ্ছিল। দুর্ঘটনায় ১৫ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। লাশ শনাক্ত করার জন্য পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।