দড়ি বেয়ে চন্দ্রনাথ পাহাড় থেকে নামার অনুমতি দেবে না প্রশাসন
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় এক হাজার ফুট ওপরে থাকা বিরূপাক্ষ মন্দির থেকে ঝুঁকিপূর্ণ র্যাপেলিং (দড়ি বেয়ে পাহাড় থেকে নামা) করতে দেবে না প্রশাসন। বিরূপাক্ষ মন্দিরটি চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের চন্দ্রনাথ পাহাড়ে অবস্থিত। বিরূপাক্ষ মন্দির থেকে আরও ২০০ ফুট ওপরে চন্দ্রনাথ মন্দির। সম্প্রতি একটি ট্র্যাভেল গ্রুপ র্যাপেলিং করার অনুমতি চেয়ে সীতাকুণ্ডের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে আবেদন করে।
তবে ঝুঁকির কথা বিবেচনায় নিয়ে এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম তীর্থস্থান হওয়ায় র্যাপেলিংয়ের অনুমতি দেবে না বলে জানিয়েছেন ইউএনও মো. শাহাদাত হোসেন। গতকাল বুধবার বিকেলে তিনি বিষয়টি প্রথম আলোকে জানান। চন্দ্রনাথ পাহাড়ে ভ্রমণে এসে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত সৃষ্টি করে—এমন কোনো কর্মকাণ্ড করতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে পুলিশের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে টহলের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ। ওসি বলেন, প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া কেউ অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করতে গেলে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে গত সপ্তাহে র্যাপেলিংয়ের অনুমতি চেয়ে ইউএনও বরাবর একটি আবেদন করে একটি ট্যুর গ্রুপ। তারা আগামীকাল শুক্রবার র্যাপেলিং করতে চেয়েছিল। এ বিষয়ে জন্য ওই গ্রুপের ফেসবুক পেজে একাধিক পোস্টও দেওয়া হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে র্যাপেলিং বন্ধে গত মঙ্গলবার চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার বরাবর আবেদন করে স্থানীয় একটি সংগঠন।
আবেদনে বলা হয়েছে, ধর্মীয় তীর্থস্থান বিরূপাক্ষ মন্দিরটি খাড়া পাহাড়ের একদম কাছে হওয়ায় র্যাপেলিংয়ের সময় মন্দির হুমকির মুখে পড়ছে। এ ছাড়া পর্যটকেরা পিকনিকের নামে মন্দির এলাকায় নানা রকম অপকর্ম করছেন। আবেদনে তীর্থস্থানের পবিত্রতা রক্ষায় তাঁরা ১০ দফা দাবি তুলে ধরেন।
স্থানীয় বাসিন্দা, উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ সূত্র জানায়, এটি সর্বসাধারণের জন্য অনুমোদিত কোনো পর্যটনকেন্দ্র নয়। সীতাকুণ্ডের চন্দ্রনাথ পাহাড় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম তীর্থস্থান। প্রতিবছর ফাল্গুন মাসের শিব চতুর্দশী তিথিতে ভক্তরা পাহাড়ে স্থাপিত মঠ মন্দির পরিক্রম করেন। তিন দিনের ধর্মীয় মেলা বসে এই তীর্থ ঘিরে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১ হাজার ২০০ ফুট ওপরে খাড়া পাহাড়ের চূড়ায় রয়েছে চন্দ্রনাথ মন্দির। এ মন্দিরে যেতে পাহাড়ের চূড়ায় আঁকাবাঁকা পাড়ি দিতে হয়। এটা পর্যটকদের কাছে রোমাঞ্চকর। তবে এক হাজার ফুট উঁচু খাড়া পাহাড় থেকে দড়ি বেয়ে ওঠানামা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ।
ইউএনও মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘একটি অনলাইন ট্যুর গ্রুপ বিরূপাক্ষ মন্দির থেকে র্যাপেলিং করার অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছিল। আমি তাদের জানিয়েছি, এটি যেহেতু একটি ধর্মীয় তীর্থস্থান, তাই এখানে এ ধরনের র্যাপেলিংয়ে অনুমতি দেব না। শুধু র্যাপেলিং নয়, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগে—এমন কাজ করতে দেওয়া হবে না।’